Home Success Stories শূন্য থেকে বিলিয়ন ডলারের মালিক

শূন্য থেকে বিলিয়ন ডলারের মালিক

রাধাকিশান দামানি হলেন একটি শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারী এবং ডি-মার্টের প্রতিষ্ঠাতা, যিনি মি. হোয়াইট এন্ড হোয়াইট নামে খ্যাত।

ভারতের ৯১ টি দোকানে তার খুচরা ব্যবসা রয়েছে এবং এটি শিল্প ব্যবসা’র মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম। তিনি ডি-মার্ট কোম্পানির ৫২%, এভিনিউ সুপার মার্টস’র ১৬% এবং ব্রাইট স্টার ইনভেস্টমেন্টস কোম্পানীর ১৬% শেয়ারের মালিক।

ডি-মার্ট হওয়ার অনেক আগে তিনি রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার মতো শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মিডাসের কারণে তিনি ভারতের সেরা বিনিয়োগকারী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন এবং তিনি রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার একজন পরামর্শক ছিলেন।

তিনি এমন একজন মানুষ যিনি সস্তায় শেয়ার কিনেন, যেটি কেউ কিনতে চায় না। তিনি ফোর্বসের তালিকায় ৯৮ তম ধনী, তার সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলার। যেটা একদম শূন্য থেকে উপার্জন করা।

তিনি বিয়ারিংয়ের ব্যবসায়ী হিসেবে তার কাজ শুরু করেছিলেন। তার শেয়ার বাজারে প্রবেশের কোন ইচ্ছাই ছিল না কিন্তু তার ভাগ্যে ছিল অন্য কিছু। বাবার মৃত্যুর পর ভাইয়ের সাথে তিনি শেয়ার ব্যবসায় যোগদান করেছিলেন।

৩২ বছর বয়সেও তার শেয়ার বাজার সম্পর্কে কোন ধারণা ছিলো না। তাই তিনি চন্দ্রকান্ত সম্পটের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহন করেন।

এর পর থেকে তিনি একটি পণ্যকে প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর ধরে বিশ্লেষণ করতেন। এতে দেখা যেত তিনি যা বলতেন সেটা সঠিক হতো। এছাড়াও তিনি স্ট্রিট দালালদের সমান করে গড়ে  তোলেন। তার কোন অহংকার ছিলো না। এভাবে তিনি ৮০ এর দশকের শেষে এবং ৯০ এর দশকের শুরুতে শেয়ার কিনে তার ভাগ্য গড়ে তোলেন।

তিনি শেয়ার বাজারের বিগ বুল হার্ষাত মেহতাকে হারিয়ে শেয়ারবাজারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরকম করার কারণে তিনি মূল্যবান বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিতি পান।

তিনি প্রধানত শেয়ার বাজারের দুটি বিষয়ের উপর খেয়াল রাখেন, দীর্ঘ মেয়াদী শেয়ারের উপর এবং বাজার পরিবর্তনের উপর।

তিনি নিজেকে মূল্যবান বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত করেন । বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে জিই ক্যাপিটাল ট্রান্সপোর্টেশন ইন্ডাস্ট্রিজ (১.৪৩% শেয়ার), ভিএসটি ইন্ডাস্ট্রিজের(২৩.৯৭%), সামটেল লিমিটেড (৩.৩৫%) ইত্যাদি।

২০০১ সালে তিনি হঠাৎ করে বাজারগুলি ছেড়ে দিয়ে খুচরা শিল্পে প্রবেশ করেন এবং ডি-মার্ট প্রতিষ্ঠা করেন।

ডি-মার্ট ভারতের হাইপার মার্কেট এবং সুপার মার্কেটের অন্তর্ভুক্ত যেটি ২০০০ সালে মুম্বাইয়ের রাধাকিশান দামানির দ্বারা শুরু হয়েছিলো। যেটি ওয়ান স্টপ শপিং ডেস্টিনেশন নামে পরিচিত। যেখানে সাংসারিক সকল পণ্য পাওয়া যায়। ডি-মার্ট দোকানের পণ্যগুলোর দাম তুলনামূলক কম এবং গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয়।

ডি-মার্ট একটি ছাড় দোকান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এখানে পরিচিত ব্রান্ডের পণ্য সরবরাহ করা হয়, এটি  গ্রাহকদের অর্থের মূল্য দেয়।

ডি-মার্ট গ্রাহকদের আয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবসা করে। এটির সাফল্য তিনটি জিনিসের উপর নির্ভর করে- গ্রাহক, বিক্রেতা এবং কর্মচারী।

অন্যান্য কোম্পানি থেকে ডি-মার্ট সবসময়(৬-৭)% ছাড়ে পণ্য বিক্রি করে। ডি-মার্টের ব্যয় কমানোর মডেলটি বেশী কার্যকর । সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে ডি-মার্ট ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরের মধ্যে ডি-মার্ট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই বছর ডি-মার্ট রাজস্ব আয় করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ২৬ টি শহর জুড়ে প্রায় ৯১ টি দোকান  রয়েছে ।

ডি-মার্ট এমন প্রথম প্রতিষ্ঠান যারা একক কোন দোকান বন্ধ না করে আজ বিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশ করেছে।

হৃদয় সম্রাট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

অর্থনীতির সঞ্জিবনী বাংলাদেশের চামড়া শিল্প

বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আয়ের খাতগুলোর যেমন যথাযথ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে...

মোবাইল ফোন সার্ভিসিং পেশার সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি

মোবাইল ফোন সার্ভিসিং পেশাটির মূল কাজ হলো নষ্ট ফোনটি সচল করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য মাধ্যম। এই গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস...

সুই–সুতো দিয়ে নকশা তুলে স্বনির্ভর- তন্বী

নাম "তানজিন নাহার তন্বী" কাজই যার মূল পরিচয়। স্বপ্ন দেখেন নিজে কিছু করে স্বাবলম্বী হয়ে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে সবাইকে চমকে দিতে।

রং-সুতার স্বপ্ন আঁকে-হৈমন্তী

সভ্যতার শুরু থেকেই নারীর সৌন্দর্য, রুচিশীলতা এবং আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে তার পোশাক। আর তাই দেশীয় কাপড়ে নিজেদের স্বকীয়তাকে তুলে ধরতে হৈমন্তীর...