Home Success Stories "আড়াই'শ টাকা থেকে তিন হাজার কোটি টাকার কোম্পানি"

“আড়াই’শ টাকা থেকে তিন হাজার কোটি টাকার কোম্পানি”

ছোট একটি পত্রিকায় মাসে ১২৫ টাকায় কাজ করতেন রবীন্দ্র কিশোর সিনহা। দুই মাস পর কোনো কিছু না জানিয়ে দু’মাসের বেতন ধরিয়ে দিয়ে পত্রিকা থেকে না করে দেওয়া হয়। অভাবের দিনে এমনটা কেউই কি মেনে নিতে পারবেন? হয়তো মনে হবে আজই পৃথিবীর শেষ দিন! কিন্তু রবীন্দ্র সিনহা সাহস ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে আড়াইশো টাকার মধ্যে দিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম জনশক্তি সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস(এসআইএস) সুপরিচিত ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

চলুন পাঠক জেনে নেয়া যাক কিভাবে রবীন্দ্র সিনহা আড়াই’শ টাকা থেকে তিন হাজার কোটি টাকার জনশক্তি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

রবীন্দ্র এমন একটি পরিবারে বেড়ে ওঠেন যেখানে সাত ভাইবোনদের চাহিদা মেটাতে রীতিমতো লড়াই করতে হতো। তিনি ১৯৭১ সালে পলিটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক করেন এবং সার্চলাইট পত্রিকায় সাংবাদিক হিসাবে স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করেন। তিনি মাসে ১২৫ টাকা বেতন পেতেন।

সাংবাদিকতার চাকরিটি তাকে বিহার রেজিমেন্টের সৈন্যদের সাথে যোগাযোগের একটি সুযোগ করে দিয়েছিলো। এই সময়টি তিনি ব্যবসায়িক নানা ধারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একজন সেনাবাহিনী কর্মকর্তা তাকে অবসরপ্রাপ্ত সৈন্যদের জীবিকা নির্বাহের সহায়তা করার জন্য একটি নিরাপত্তা সেবা সংস্থা খোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এরপরেই, কোনো কারণ উল্লেখ না করেই সংবাদপত্রটি রবীন্দ্রকে বেঁচে থাকার জন্য দুই মাসের বেতন দিয়ে বরখাস্ত করেছিল।

তখন তিনি ওই সেনা কর্মকর্তার দেওয়া পরামর্শে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি তার সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস (এসআইএস) স্থাপনের জন্য তার দুই মাসের বেতন আলাদা রাখেন এবং অফিসের জন্য একটি গ্যারেজ ভাড়া নেন। অন্ধকার এবং অপরিচ্ছন্ন গ্যারেজ থেকেই তিনি সফলতা অর্জন করেন।

তিনি সেই সেনাদের কাছে গিয়েছিলেন যারা ভারত-পাক যুদ্ধ করেছিলেন এবং পেনশনের টাকায় জীবনযাপন করছিলেন। প্রথম বছরে প্রায় ২৫০ জন সৈনিককে এসআইএস কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিলো এবং তিনি প্রায় ১ লক্ষ টাকা লাভ করেন।

১৯৮৮ সালে রবীন্দ্র তার কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন এবং এসটিডি দশম পাস এবং স্নাতক সৈন্যদের জন্য একটি উচ্চ-শ্রেণীর প্রশিক্ষণ একাডেমী চালু করেন। এই শাখাটি ১২ মাসের মধ্যে ২ লক্ষ সৈন্যের এসটিডি দশম পাস এবং দেড় হাজার সৈন্যের স্নাতক প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।

পরে এ ব্যাবসার জন্য আরও তিনটি শাখা চালু করা হয়। কিছুদিন বাদে সংস্থাটি ২৫ কোটি রুপির মুনাফা অর্জন করে।

২০০৮ সালে রবীন্দ্র সিনহা বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি শুরু করে এবং অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ করপোরেট তাদের সিকিউরিটি খাতে জনশক্তি রবীন্দ্র সিনহার কোম্পানি থেকে নিচ্ছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় এসআইএসের কর্মীরা এটিএম বুথ সহ টাকার নিরাপত্তায় নিযোজিত আছে।

রবীন্দ্র সিনহা সর্বদা তার কর্মীদের সাথে শ্রদ্ধার সঙ্গে কথা বলতেন। বিষয়টি সহকর্মীদের হৃদয় জয় করে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির দারুণ প্রসার ঘটে।

বর্তমানে রবীন্দ্রর ফার্মটি ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৭০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটি সিকিউরিটি খাতে জনশক্তি দিয়ে টাটা স্টিল, টাটা মোটরস, আইসিআইসিআই ব্যাংক, ফিউচার গ্রুপ ইত্যাদি কোম্পানিকে সহযোগিতা করছে।

বর্তমানে এসআইএস গ্রুপ এশিয়ার বৃহত্তম জনশক্তি সংস্থাতে পরিণত হয়েছে। এসআইএসের ক্লায়েন্ট হিসাবে প্রায় ৩০০ টি করপোরেট হাউস আছে এবং কয়েক বছর আগে কোম্পানিটি অস্ট্রেলিয়ার কিউব সিকিউরিটিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এসব সম্ভব হয়েছিলো রবীন্দ্র সিনহার দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমস্ত প্রতিকূলতার পরেও সফল হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টার জন্য।

হৃদয় সম্রাট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সুই–সুতো দিয়ে নকশা তুলে স্বনির্ভর- তন্বী

নাম "তানজিন নাহার তন্বী" কাজই যার মূল পরিচয়। স্বপ্ন দেখেন নিজে কিছু করে স্বাবলম্বী হয়ে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে সবাইকে চমকে দিতে।

রং-সুতার স্বপ্ন আঁকে-হৈমন্তী

সভ্যতার শুরু থেকেই নারীর সৌন্দর্য, রুচিশীলতা এবং আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে তার পোশাক। আর তাই দেশীয় কাপড়ে নিজেদের স্বকীয়তাকে তুলে ধরতে হৈমন্তীর...

সংগীতে সবচাইতে বড় আয়োজন চ্যানেল আই এর সাথে প্রধান পৃষ্ঠপোষক এসএমই উদ্যোক্তাদের ঐক্য

ডিসেম্বরে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে প্রদান করা হবে ‘ঐক্য চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ২০২০’। ১৫তম এ আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ঐক্য ফাউন্ডেশন।

১৩ টি শাড়ি থেকে লাখপতি নওগাঁর মুসফেরা জাহান

বাবা স্কুল শিক্ষক থাকলেও একটা শাড়ির দোকান ছিল। বাবার দোকানের শাড়ির প্রতি ছোটবেলা থেকে খুন টান ছিল। নিজেও খুব শাড়ি ভালোবাসেন। ব্যবসায়িক...