এক সময় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যমানের বেসরকারি স্টার্টআপ বা “ইউনিকর্ন” হওয়া ছিল উদ্যোক্তাদের জন্য বিরল এক স্বপ্ন। ২০১৩ সালে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট Aileen Lee এই শব্দটি চালু করেছিলেন, তখন এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। কিন্তু এক দশক পর সেই চিত্র পুরো বদলে গেছে।
এখন বিশ্বজুড়ে এক হাজারের বেশি ইউনিকর্ন রয়েছে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ জগতে যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু পরিভাষা— “ডেকাকর্ন” (১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমান) এবং “হেক্টোকর্ন” (১০০ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি)। আর এর মাঝখানে দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে আরেকটি শব্দ— “Soonicorn”।
কী এই Soonicorn?
Soonicorn বলা হচ্ছে সেই স্টার্টআপগুলোকে, যাদের মূল্যমান ৫০০ মিলিয়ন থেকে ৯৯৯ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে এবং যেগুলো খুব দ্রুত ইউনিকর্ন হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গবেষক Ilya A. Strebulaev বলেন, “Soonicorn স্টার্টআপগুলো আমাদের দেখায়, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম কোন দিকে যাচ্ছে।”
তাঁর গবেষণা অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই গত বছরের শেষ নাগাদ ২,০০০–এর বেশি কোম্পানি Soonicorn পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এক দশক আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
কেন ২০২৬ হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বছর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সাল Soonicorn–এর জন্য বড় একটি মোড় ঘোরানো সময় হতে পারে। এর অন্যতম কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)–কে ঘিরে বিনিয়োগের বিস্ফোরণ।
AI–ভিত্তিক নতুন স্টার্টআপগুলো এখন দ্রুত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পাচ্ছে। ফলে অনেক কোম্পানি প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই শত কোটি ডলারের কাছাকাছি মূল্যায়নে পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি কিছু স্টার্টআপ তাদের প্রথম বিনিয়োগ রাউন্ডেই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন অর্জন করছে।
তবে সবাই ইউনিকর্ন হবে না
নামের মধ্যে “Soon” থাকলেও সব Soonicorn শেষ পর্যন্ত ইউনিকর্ন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Soonicorn শব্দটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোম্পানির অবস্থান বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
বাস্তবে কিছু কোম্পানি কম মূল্যায়নে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে, কিছু দীর্ঘদিন একই পর্যায়ে থাকতে পারে, আবার অনেক স্টার্টআপ শেষ পর্যন্ত টিকেও থাকতে পারে না।
এক দশক আগে একটি স্টার্টআপের ইউনিকর্ন হতে গড়ে ৬.৫ বছর সময় লাগত। এখন সেই সময় কমে প্রায় ৩.৫ বছরে নেমে এসেছে।
একই সঙ্গে বড় স্টার্টআপগুলো এখন আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় private কোম্পানি হিসেবেই থাকতে আগ্রহী। কারণ private থাকলে তারা বাজারের চাপ ছাড়াই নিজেদের মূল্যায়ন বাড়ানোর সুযোগ পায়।
২০২৬ সালে বিশ্বের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে OpenAI, SpaceX এবং Anthropic, যেগুলো ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান private কোম্পানির তালিকায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Soonicorn–এর দ্রুত বৃদ্ধি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও দ্রুত, আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।
২০২৬ সালে নতুন অনেক Soonicorn তৈরি হবে, এবং আজ যেসব স্টার্টআপের নামও শোনা যায়নি, তারাই হয়তো আগামী দিনের বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হবে।
দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে





