দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবারও ফিরে এসেছে বিসিক মধু মেলা। করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কায় ২০২০ সালের পর একবার মধু মেলার আয়োজন হলেও ২০২১ সাল থেকে আর হয়নি এই আয়োজন। দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে নতুন উদ্যমে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবন চত্বরে আবারও শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক মধু মেলা ২০২৫।
রবিবার সকাল ৯ টায় ঢাকার তেজগাঁওস্থ বিসিক প্রধান কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনার ও মেলার উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো: মোখলেস উর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো: ওবায়দুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের চেয়ারম্যান জনাব মো: সাইফুল ইসলাম।
বিপণন বিভাগ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের আয়োজনে এই মেলা চলছে ৩১শে আগস্ট থেকে ৪ঠা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
এবারের মেলায় স্থান পেয়েছে মোট ৩০টি স্টল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৌচাষীরা তাদের নিজ হাতে উৎপাদিত প্রাকৃতিক খাঁটি মধু ও মধুজাত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন এখানে। উদ্যোক্তারা জানান, তাদের পণ্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য এই মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিসিকের ছয়টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে মৌচাষ করে উৎপাদিত মধু এখন ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে সরাসরি। শুধু মধু নয়, মেলায় দেখা মিলছে নানা ধরনের দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যেরও। এর মধ্যে রয়েছে—সরিষার তেল, নারিকেল তেল, কালোজিরা তেল, পেঁয়াজের তেল, ইসবগুলের ভূষি, ঘি, বিভিন্ন ধরনের বীজ, লাল চাল, যবের ছাতু, গমের লাল আটা, পাহাড়ি হলদু গুঁড়া সহ আরও নানান পণ্য।
মেলা ঘুরে ক্রেতারা যেমন খাঁটি মধু কিনতে পারছেন, তেমনি পাচ্ছেন মধুর উপকারিতা ও সঠিক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
আয়োজকরা বলছেন, বিসিক মধু মেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রদর্শনী নয়; বরং এটি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ—নিজেদের উৎপাদিত খাঁটি পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। একই সঙ্গে মধু ও প্রাকৃতিক পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা তৈরিতেও এ আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত বিসিক ভবন চত্বর যেন রূপ নিয়েছে এক উৎসবে। প্রকৃতির মিষ্টি উপহার মধুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেবে আরও এক ধাপ।





