ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দেশীয় উদ্যোক্তারা শুভেচ্ছা বার্তার পাশাপাশি ‘উদ্যোক্তা বার্তাকে’ জানিয়েছেন তাদের ভাবনার, অভিজ্ঞতার কথা। এই পর্ব সাজানো হয়েছে দেশি পণ্যের আখড়া খ্যাত বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের নিয়ে। অন্যতম খুশির দিন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উদযাপন করেছে ঈদের আনন্দ।

‘নতুনত্ব’র (বুটিকস ও হস্তশিল্প) স্বত্বাধিকারী উদ্যোক্তা হাসিনা মুক্তা ঈদের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানিয়ে উদ্যোক্তা বার্তায় এবারের ঈদের নিজের অনুভূতি জানান, ‘সকালে নামাজ পড়েই রান্নার কাজের ব্যস্ত হয়ে যাই। মূলত আমার ঈদ বলতে দুই মেয়েকে নিয়েই। আগের দিনই ঘর গুছিয়ে রেখেছিলাম এবং রান্নার আয়োজন করে প্রতি ঈদে প্রস্তুত থাকি। যেহেতু আমার দেবর ও ননদ একই বাড়িতেই থাকে। তাই তাদের সাথে ঈদ কাটানো হয়। এরপর আম্মা-আব্বা দূরে থাকে তাই তাদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ মোবাইলে কথা বলি। বরাবরই সাজগোজ একটু কম করি। যদিও অনেক ব্যস্ততার মাঝে থাকি। তবুও মেয়েদের জন্য সাজগোজ করে মেয়েদের সাথে ঈদ পালন করা হয়। পাশাপাশি মেহমানদের আপ্যায়ন করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি। যেহেতু শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজন নিয়ে একই বাড়িতেই থাকি তাই তাদের নিয়ে ব্যস্ততায় পালন করে থাকি প্রতিবার এ দিনটি। আর কোভিডের কারণে বাহিরে যাওয়া হয়নি। তবে ঘরের সাজগোজ, সুস্বাদু খাবার, মেয়েদের সাজিয়ে এবং আত্মীয়-স্বজনদের নিয়েই খুব ভালো কেটেছে এবারের ঈদ’।

ব্যবসা রমজান মাস জুড়ে কেমন গিয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি উদ্যোক্তা বার্তাকে জানান, যেহেতু কোভিডের কারণে অনেক কিছু পিছিয়ে যাচ্ছে তাই ব্যবসা খুব খারাপ অবস্থান করেনি। যতটুকু পেরেছি ক্রেতাদেত পণ্য সময় মতো ডেলিভারি দিতে পেরে খুশি মনে ঈদ করতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

তাছাড়াও তিনি মানবিক উদ্যোগে নিয়ে রমজানে কাজ করেছেন। সুই, সুতা, কাপড় কাচি নিয়ে যাদের কাজ এবার সম্ভাবনার ঈদ উপহার সেই সব শ্রমিকদের ঘরে পৌঁছিয়ে দেন। সহযোগিতায় যারা ছিল আইডিএলসি। নতুনত্বের পক্ষ থেকে সম্ভাবনা ও আইডিএলসিকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান।

উদ্যোক্তা ত্রয়ী ইসলাম স্বত্ত্বাধিকারী ‘ঠোঙা’। তিনি সকল উদ্যোক্তা এবং গ্রাহকদের জানিয়েছেন ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক। এবারের ঈদ নিয়ে তিনি বলেন, ‘রমজানের শেষ ইফতারের পর অর্থাৎ চাঁদ রাত থেকেই তো শুরু হয়ে যায় ঈদ৷ মাঝ রাত পর্যন্ত রান্না সেরে সক্কাল সক্কাল উঠে স্বামী আর শ্বশুরকে প্রস্তুত করে সেমাই খাইয়ে ঈদের নামাজে পাঠিয়েছি। বাসার ছাদেই জামাত হয়েছে লকডাউন পলিসি মেনেই৷ এরপর আমি আর আম্মা বাকি রান্নার প্রিপারেশন নিয়েছি। মাঝে আমি আরেকবার ঘুমিয়ে নিয়েছিলাম একটু। এরপর উঠে মেয়েকে রেডি করা, টেবিলে খাবার দেয়া, নিজে রেডি হওয়া। বাবা নেই, মা থাকে খুব কাছেই। তাই মা, ভাই, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, স্বামী, সন্তান নিয়েই ঈদ। তাছাড়া আশপাশ থেকে ননদ-দেবররা আসে। এদের নিয়ে ঈদ কেটে যায়।সাধারণত বাসায় থাকা হয়। অনেক রাত পর্যন্তই বাসায় মেহমান আসে। গান বাজনা হয়। বেশ সুস্বাদু খাবার-দাবারের আয়োজন করেছিলাম। ঈদের দিন খুব একটা বের হওয়া হয়নি। তবে ঈদ অনেক ভালোই কেটেছে’।

ব্যবসা রমজান মাস জুড়ে কেমন গিয়েছে জিজ্ঞেস করলে ত্রয়ী জানান, আলহামদুলিল্লাহ, যেহেতু অর্গানিক খাদ্য পণ্য নিয়ে কাজ করি, রোজাকে উপলক্ষ্য করে কিছু স্পেশাল পণ্য ছিলো। ভালো পণ্যের চাহিদা সব সময় ক্রেতার মধ্যে থাকে। সেই চাহিদার কিছুটা হলেও ঠোঙা পূরণ করতে পেরেছে।

খাদি’র স্বত্ত্বাধিকারী উদ্যোক্তা ফাতেমা তুজ জোহরা নুভিয়া ঈদের শুভেচ্ছা ও সবার জন্য শুভ কামনা জানিয়ে এবারের ঈদ নিয়ে বলেন, ‘ঈদের দিনে সকালে, গোসল-নাস্তা-ঈদের কাপড় পড়ে পরিবারের সবাই মিলে ঘরেই ঈদের নামাজ পড়েছি। এখন কোভিড পরিস্থিতির জন্য কেউ বাইরে নামাজ পড়িনি। এরপর নতুন কাপড় পরে বাসার গুরুজনদের সালাম করা, নাস্তায় সেমাই, ফিরনি, হালিম ইত্যাদির মাধ্যমে ঈদের সকাল শুরু করেছি। এবারের ঈদের পুরোটা সময় বাসায়ই কেটেছে পরিবারের সাথে। টুকটাক রান্নাবান্না আর পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে আড্ডা দিয়েই কেটেছে ঈদের দিনটা। এবারের ঈদে শাড়ি পরেছি। গয়নার ক্ষেত্রে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে সিলভার টোনের গয়না, সুতা বা কাঠের গয়না ইত্যাদি ভালো লাগে। সবসময় হালকা মেকআপ পছন্দ করি। প্রতিদিনের ব্যবহারে কাজলই আমার একমাত্র সঙ্গী। তবে ছবি তোলার সময় একটু ভারী মেকআপ করা হয়। রাতের বেলা সাধারণত কাছের আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া হয়। তবে এবার কোভিড পরিস্থিতির জন্য কোথাো যাইনি। বাসাতেই ছিলাম’।

রমজানে ব্যবসা কেমন হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি উদ্যোক্তা বার্তাকে জানান, ব্যবসা আলহামদুলিল্লাহ ভালো গিয়েছে। রমজানে লকডাউন পরিস্থিতি আর কয়েকজন কারিগর অসুস্থ থাকায় নতুন কালেকশন আনা নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে নিয়মিত ক্রেতারা বরাবরের মত এবারও ‘খাদি’র পাশে ছিলেন।

মেহনাজ খান
উদ্যোক্তা বার্তা, ঢাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here