উদ্যোক্তা- মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও ফারজানা আক্তার

সময়ের পথ পরিক্রমায় মানব সভ্যতার বিকাশের পর থেকে সকল স্তরের মানুষদের ঘরে শোভা পাচ্ছে কাঠের তৈরি আসবাবপত্র। এই সকল সামগ্রী যারা তৈরি করেন তাঁদের বলা হয়, কাঠ মিস্ত্রি বা সূঁতার। সত্যিকারে মনের গাঁথুনি দিয়ে কাঠের উপর নকশা ফুটান নকশা শিল্পীরা। মনের মাধুরী মিশিয়ে নকশা ফুটানোর মধ্য দিয়েই চলে তাদের সংসার।

একসময় এই পেশা শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেই প্রচলন ছিল। কেননা বংশ পরম্পরায় ‘সূঁতার’ উপাধিটি তাঁরাই ধরে রেখেছিলেন। সময়ের পথ পরিক্রমায় এই পেশাটি এখন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও ছড়িয়ে গেছে। এমনও হয়েছে যারা কাঠমিস্ত্রিদের সহযোগি হিসেবে একসময় কাজ করতেন, পরবর্তীতে তারাই সুদক্ষ কারিগর হিসেবে তৈরি হয়ে গেছেন। এভাবেই কাঠমিস্ত্রি বা ‘সূঁতার’ রা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে বেঁচে আছেন।

বর্তমানে অত্যাধুনিক বিভিন্ন কোম্পানির ফার্নিচার বের হলেও একটুও চাহিদা কমেনি কাঠের ফার্নিচারের। অত্যাধুনিক ফার্নিচার দেখতে সৌন্দর্য হলেও টেকসই না হওয়াতে মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে এখনো পৌঁছতে পারেনি। আর দিন দিন মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে ততই কদর বাড়ছে নিত্যনতুন ডিজাইনের কাঠের ফার্নিচারের।

আজকে এই প্রতিবেদনের অবতারনা এমন এক দম্পত্তিদের নিয়ে যারা একসাথে কাজ করছেন -কাঠের নকশার কারিগর হিসেবে। দম্পত্তিদ্বয় হলেন ফারজানা আক্তার ও মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।

ফারজানা আক্তার, একজন গৃহিণী, ১ ছেলে,১ মেয়ে, হাসব্যান্ড আলমগীর হোসেন -আপাতত এই টুকই পরিচয়, তবে সবাই চায়, তার নিজের একটা পরিচয় হোক। ফারজানা আখতার তাঁর ব্যতিক্রম নন।
ছোট বেলা থেকেই সবারই স্বপ্ন থাকে কেউ ডাক্তার হবে কেউ বা পাইলট।কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বপ্নের ইচ্ছাটুকু অন্য দিকে মোড় নেয়।ফারজানা আক্তার ব্যবসায় শাখার ছাত্রী ছিলেন।ইন্টার পাশ এর পরে বিয়ে হয়ে যায়,তাই পড়ালেখা শেষ করতে পারেন নাই, আর উদ্যোক্তার হাসব্যান্ড বিয়ের আগে থেকেই একজন ব্যবসায়ী ছিলেন ,তাই হাসব্যান্ড কে দেখেই ফারজানা আক্তারের ব্যবসাতে আসার জন্য মনস্থির করেন। তার হাসব্যান্ড তাকে ব্যবসার সকল কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করেন।

উদ্যোক্তা বলেন, যেকোন ব্যবসায় উদ্যোগের জন্য প্রথমত প্রয়োজন মূলধন ও পরিকল্পনা। যেহেতু ব্যবসা শাখার ছাত্রী ছিলাম তাই পরিকল্পনার থেকে মূলধনের প্রবলেমটা বেশি ছিল। সকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আমরা দুজন প্রতিষ্ঠা করলাম ” আমার স্বপ্ন ” উদ্যোক্তার সিগনেচার পণ্যর মধ্যে আছে কাঠের ফার্নিচার আইটেম, কাঠের ছোট ছোট ফার্নিচার, সোপিস ও মার্বেল এর আইটেম।

কথা প্রসঙ্গে ফারজানা আক্তার আরও জানান, কাঠের ফার্নিচারে নকশার কাজ ভালভাবে আয়ত্ত করতে একজন কারিগরের প্রায় ৬ বছর সময় লাগে। যদি ভালভাবে মনোযোগ দিয়ে কাজ করে। তার প্রতিষ্ঠানের একজন ভালো মানের কারিগর প্রতি মাসে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান। আর যারা মধ্যম মানের কারিগর হন তারা ৮-৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান।

এক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে নকশা ও ডিজাইন বৈচিত্র্য নিয়ে কাজের অর্ডার নেয়া হয়I নকশা ও ডিজাইন বৈচিত্র্য এর উপর দাম নির্ধারণ হয়। যে কাঠের উপর নকশার পরিমান বেশি সে ফার্নিচারের মজুরিও বেশি।

উদ্যোক্তা বিভিন্ন পাইকারি বাজারে গিয়ে ভালো মানের কাঠ সংগ্রহ করেন। তারপর এগুলো চিড়ে রোদে শুকিয়ে নেন। কাঠ যত শুকানো হবে তত মজবুত হবে। এরপর এগুলো বিভিন্ন আকারে কেটে নিয়ে তৈরি করেন চাহিদা মতো সামগ্রী। করাত, হাতুড়, বাডাল, মাডাল, রাঁদা, ড্রিল মেশিন ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে শক্তপোক্ত কাঠকে সাজিয়ে তোলেন ব্যবহার উপযোগি আসবাব। আমাদের কাছ থেকে গ্রাহক তার সামর্থ্য অনুযায়ী নকশা করা কাঠের আসবাব তৈরি করে নেয়। নিত্য-নতুন আধুনিক ডিজিইনের উন্নত মানের সকল প্রকার ফার্ণিচার যা মান সম্পন্ন কাঠ ও সুদক্ষ কারিগর দ্বারা ” আমার স্বপ্ন ” তৈরি করে থাকে।

উদ্যোক্তা বলেন ,আমি যেহেতু ঘর সাজানোর আইটেম নিয়ে কাজ করছি,তাই আমি সবার কাছে উইনিক কিছু পৌছে দিতে চাচ্ছি, মানসম্মত,রুচিসম্মত, ব্যতিক্রমী পণ্য, যার জন্য ক্রেতা আমার কাছে আসবে।ব্যতিক্রমী ও যথাযথ মানসম্মত পণ্য দিয়ে ক্রেতার মনে জায়গা নিতে চাই, সর্বোপরি আমরা একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাই, নিজেদের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই।

ডেস্ক রিপোর্ট, উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here