উদ্যোক্তা লায়লা নূর মুক্তি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে উদ্যোক্তার জীবন বেছে নিয়েছেন লায়লা নূর মুক্তি। যদিও তিনি পূর্বে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কান্ট্রি ম্যানেজার পদে ছিলেন। দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতে হতো। তবে মা আর ছোট বোন ছাড়া কেউ নেই বলে বাসায় বসে কিছু করবেন বলে এ উদ্দেশ্য নিয়ে গত বছর থেকে শুরু করেন উদ্যোক্তা হওয়ার উদ্যোগ।

উদ্যোক্তা লায়লা নূর মুক্তি স্বত্ত্বাধিকারী ‘নিলাম্বরী’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচালনা করেন। বাসিন্দা হলেন ঢাকার। শেষ পোস্টিং ছিল সিলংকাই। কিন্তু গত বছর লকডাউনে মেডিক্যাল ট্যুরিজম যখন বন্ধ প্রায়, তখন খুব হতাস হয়ে শুরু করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ। সেই সময় তার বোন ও এক কাজিন এই পরামর্শ দেয় এই উদ্যোগ গ্রহণ করার।

এরপর থেকে এ সূত্র ধরেন উদ্যোক্তা লায়লা। তিনি ৭ জানুয়ারি উইম্যান্স ভলেন্টারি এসোসিয়েশনে বেঙ্গল সিস্টারহুড কনসোর্টিয়াম আয়োজিত বাসন্তি মেলায় অংশগ্রহণ করেন। তার মূল পণ্যই হলো মেয়েদের কুর্তি।

লায়লা বলেন, “অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় কর্মজীবন আমার। রাতারাতি কোন মহান ভাবনা নিয়ে আমি উদ্যোক্তা জীবন শুরু করিনি। জীবন ও জীবিকার তাগিদে, মাকে পালনের তীব্র উৎকণ্ঠা থেকে আমার কর্মজীবন শুরু হয়। পুঁজি বলতে আমার মায়ের কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে মেলায় অংশ গ্রহণ করে উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু করেছিলাম। যেহেতু আমি ভিন্ন ডিজাইনের মেয়েদের কুর্তি ও ননস্টিচ, ওয়ানপিস খুব পছন্দ করি। তাই সেই পণ্য নিয়ে উদ্যোগটি অতিক্রম করছি। যদিও কর্মী বলতে আমি নিজে, আমার একটি ছোট বোন ও পাড়ার একজন দর্জি। আপাতত ঢাকার মধ্যেই ব্যবসা চলিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যবসায় একদমই নতুন আমি”।

উদ্যোক্তা লায়লা নূর মুক্তি বলেন, লকডাউনে বসে বসে খুব বিরক্ত ও হতাস হয়ে যাচ্ছিলাম। তাই এই উদ্যোগ। আর কুর্তি নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্য হলো খুব সহজে পোশাক নির্বাচন। কোলকাতায় দেখেছি, অফিসে কর্মরত মেয়েরা ও স্টুডেন্টরা এই কুর্তিগুলো খুব পছন্দ করে। কারণ এই পোশাকগুলো খুব সহজলভ্য। এই কুর্তি নিয়ে নিজস্ব একটা ব্র্যান্ড করার লক্ষ্য আছে যার সিংহভাগ কর্মী হবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ।

নতুন তরুণ-তরুণীদের জন্য বলেন, ‘হতাশ হবেন না। আমি যদি পঞ্চাশের কোটায় দাঁড়িয়ে এমন একটা ভাবনা ভাবতে পারি তবে আপনারা কেন পারবেন না। দেশকে বেকারত্বের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে আসুন সবাই এক সাথে কাজ করি ও অন্যদের কর্মসংস্থান তৈরী করি’।

মেহনাজ খান
উদ্যোক্তা বার্তা, ঢাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here