মিশ্র ফলদ বাগানে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা

0
উদ্যোক্তা- সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কৃষি উদ্যোক্তা সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা। সামান্য মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেও অল্প সময়ে শ্রম এবং কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকে হেসেছেন সফলতার হাসি।

চাষ করে আলোর মুখ দেখছেন গোলাম মোস্তফা 85 1

সোনারাম কার্বারি পাড়ার সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা। পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটিতে জন্ম হওয়ার সুবাদে, শৈশব-কৈশোরের সেই স্মৃতিময় দিনগুলোও ছিল আরো একটু বেশি স্মৃতিময়। এ-পাহাড় থেকে ও-পাহাড়ে হেসে-খেলে বড় হয়েছেন সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা। মাধ্যমিক এরপর ইতি টানেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনের। ২০১৫ তে ৩৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

চাষ করে আলোর মুখ দেখছেন গোলাম মোস্তফা 91

শুরুতে ৫ একর জমিতে বরই গাছ লাগান সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা। কাজের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ছিলো তার এবং সে সাথে ছিল শ্রম। এই দুটিকেই প্রধান পুঁজি করে সামনে এগিয়েছেন তিনি। সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা তার কৃষি অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়ানোর জন্য রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নেন।

চাষ করে আলোর মুখ দেখছেন গোলাম মোস্তফা 87 1

বর্তমানে সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যার ৬০০ টি বল সুন্দরী বর, ৫০০ টি লিচু, ৫০০ লটকন, ৩০০ মাল্টা, ৩০০ আম, ৫০ টি কাঁঠাল, ৫০০ রেড লেডি পেঁপে, ৫০০ বাংলা কলা, রাম ভুটান চারা ১০০ টি এবং ৫০ টি তেঁতুল গাছ রয়েছে।

চাষ করে আলোর মুখ দেখছেন গোলাম মোস্তফা 86 1

এছাড়াও দুই একর জমিতে তিনি বিলাতী ধনিয়া পাতা চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে ১৫ একর জমিতে ফলের আবাদ রয়েছে সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যার। প্রতিদিন ১০ জন সহোযোদ্ধা সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এ-আবাদগুলোর পরিচর্যা করে চলেছেন।

চাষ করে আলোর মুখ দেখছেন গোলাম মোস্তফা 90

এগুলো বিক্রির ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষি উদ্যোক্তা সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা উদ্যোক্তা বার্তাকে বলেন, “এ-ফলগুলো বিক্রির জন্য আমার দূর দূরান্তে কোথাও যেতে হয়নি। স্থানীয় বাজারে নিয়ে গেলে মূহুর্তেই বিক্রি হয়ে যায় । এছাড়াও অনেক সময় বাগান থেকেই বিক্রি হয়। তিনি আরো বলেন বর্তমান সময়ে সবই অনলাইন ভিত্তিক হচ্ছে। আমিও কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘রাঙামাটি এগ্রো ফার্ম সার্ভিস’ নামে একটি পেজ চালু করি। সেখান থেকেও ভালো সাড়া পাচ্ছি। ৩৫ হাজার পুঁজি আজ লাখ লাখ টাকায় পৌঁছে গেছে। আমায় দেখে আরো দশজন অনুপ্রাণিত হচ্ছে এবং আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে এটিই আমার চাওয়া”।

তরুণদের উদ্যেশ্য সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন “চাকরির পেছনে না দৌঁড়ে আপনারা উদ্যোক্তা হোন, মূলধন কম থাকলেও নিজের ইচ্ছা কে জাগিয়ে তুলুন এবং পরিশ্রম করে যান নিশ্চয় আপনারাও একদিন সফলতার হাসি হাসবেন।”

তামান্না ইমাম
রাজশাহী ডেস্ক, উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here