প্রতিমাসেই দেশের বাইরে যাচ্ছে পল্লী নগরের মাটির তৈজসপত্র

0
উদ্যোক্তা মাহফুজা আক্তার মলি

ছোটোবেলা থেকেই গ্রামের পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন মাহফুজা আক্তার মলি। গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা, এসএসসি এবং এইচএসসি। গ্রাম থেকে শহরে গিয়ে পড়াশোনা করাটা অনেকটা স্বপ্নের মতো, অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকে। তারপরও মা-বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে হওয়াতে কোনো দিক থেকে পিছিয়ে রাখেননি। দিয়েছিলেন সকল ধরনের স্বাধীনতা, সকল ধরনের সুবিধা। অনেকে অনেক কথা বলেছেন, শহরে পড়াশোনা করতে দিও না মেয়েকে। কিন্তু না, তার পরিবার সব সময় তাকে সাপোর্ট দিয়েছে। অনার্স শেষ করেছেন খুলনা কমার্স কলেজ থেকে। মা বাবার স্বপ্ন ছিলো মেয়ে ব্যাংকার হবে। তাইতো একাউন্টিং বিভাগে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু না, তা আর হয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

তারপর সংসার জীবনে পা রাখলেন। স্বামীর চাকরির জন্য ঢাকায় বাসা নিলেন। তার স্বপ্ন পূরনের জন্য তার পাশে থেকে সব সময় সাপোর্ট দিতেন স্বামী। মাস্টার্স শেষ করলেন ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে পাশাপাশি আইসিএমএবি-এর পার্ট-১ শেষ করলেন। পরের পার্টগুলো আর শেষ করতে পারেননি কারণ সেই সাথে সাথে ভালো একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে গেলেন। সংসার, জব, পড়াশোনা সব মিলিয়ে অনেক পরিশ্রম হতো।

hafiz 1 2

৪ বছর চাকরি করার পর বেবি হলো। জবটা ছেড়ে দিলেন, বাচ্চাকে দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিলো না তাই। আর বাচ্চার ছেলেবেলাটাও তিনি মিস করতে চাননি। কিন্তু চাকরিটা ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে হতাশায় ভুগতে শুরু করলেন। ভাবতেন, ‘নিজের কিছু একটা করতেই হবে। নিজের একটা পরিচয় থাকাটা খুবই দরকার।’ তার স্বামী সব সময় উৎসাহিত করতো কিছু করার জন্য। তার সাপোর্ট না থাকলে সত্যি কিছুই সম্ভব ছিলো না। করোনা কালীন সময়ে ঘরে থেকে আরো বেশী ভেঙে পড়লেন। স্বামী তাকে অনলাইনে বিজনেস শুরু করতে বললেন।

মলির সব সময় ইচ্ছা ছিলো দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করার, দেশীয় ঐতিহ্যকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করার। মাটির তৈজসপত্রের প্রতি ভালোবাসা তার ছোটোবেলা থেকেই। হঠাৎ করে মনে হলো, ‘আমি তো আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য মৃৎশিল্প নিয়ে কাজ করতে পারি। আমাদের হারানো ঐতিহ্যকে আবারও তুলে ধরতে পারি’। সেই চিন্তা থেকে ‘পল্লী নগর’ নামে অনলাইনে একটি পেইজ খুললেন। ২০২০ সালের মে মাসে প্রথম পথচলা শুরু তারপর আর পিছে ফিরে তাকানো লাগেনি।

নিজে কাজ না করলে কখনো বুঝতে পারতেন না মাটির তৈজসপত্রের এতো চাহিদা সবার কাছে। এতো পছন্দ করবে সবাই। শুধু যে দেশেই চাহিদা তা নয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও বেশ কয়েকবার পৌঁছে গেছে পল্লী নগরের তৈজসপত্র। ইউএসএ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশে পাঠিয়েছেন মাটির ডিনার সেট। দেশের শিকড়ের প্রতি তাদের কতো টান, ভালোবাসা এটা সত্যিই বলে বোঝানো যাবে না। এতো ভারী জিনিস, এতো খরচ তারপরও তারা নিয়ে যাচ্ছে ভালোবেসে প্রতিনিয়ত । প্রতিমাসেই দেশের বাইরে যাচ্ছে পল্লী নগরের মাটির বাসনকোসন।

hafiz 2 1

স্বপ্ন দেখেন আমাদের হারানো ঐতিহ্যকে আবারও ফিরেয়ে এনে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে। আগেরকার মতো প্রতি ঘরে ঘরে থাকুক মাটির তৈজসপত্রের ছোঁয়া। ফিরে আসুক বাঙালির সেই সোনালী দিনগুলো। মাটির বাসনে নানী-দাদীদের মতো পাত পেড়ে খাওয়ার দিনগুলো। প্রচলন হোক আবার মাটির সানকি, সরা, কলস, হাঁড়ি,পাতিল, জগ আর মটকা ব্যবহার। পাশাপাশি পল্লী নগরকে দেশীয় পণ্যের ব্রান্ডে পরিনত করতে চান।

সাইদ হাফিজ,
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here