ফারজানা ইসলাম পিংকির মসলাপাতি

0
উদ্যোক্তা ফারজানা ইয়াসমিন পিংকি

ফারজানা ইসলাম পিংকি রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়ার ব্যাংকক কলোনির মেয়ে। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডিজাইন (NID) থেকে ডিপ্লোমা করেছেন। সেই সৃজনশীলতা এখন তিনি দিচ্ছেন মসলায়।

চার সন্তান রেখে বাইরে কাজ করাটা তার জন্য ছিল কষ্টসাধ্য। কিন্তু সবসময়ই কিছু করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার মনের ভেতরে, মনে মনে ভাবতেন কী করা যায়?? মনের সেই সুপ্ত বাসনা থেকেই ২১ অক্টোবর, ২০২১ এ অনলাইনে “মসলা-পাতি” নাম দিয়ে একটা পেইজ খুলেন। সেই থেকেই তার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু।

“মসলা-পাতি” নাম কেন জানতে চাইলে পিংকি জানান: ১২ বছরের সংসার জীবনের একটা বিশাল সময় কাটে আমার রান্নাঘরে। আর রান্নাঘর মানেই মসলার কাজ। আমি বরাবরই আমার মসলা আমি নিজেই প্রস্তুত করে নিতাম। আর এখন চারদিকে যে পরিমাণ ভেজাল তাই কখনোই বাইরের মসলায় আস্থা পেতাম না। সেই ভাবনা থেকেই মুলত আমার এই কাজ করা। তাছাড়া এখন প্রায় সবাই ব্যস্ত, নিজে মসলা প্রসেসিং করে নেওয়াটা ততটা সহজ হয় না। ব্যস্ত মানুষদের কথা আর মানসম্মত মসলার কথা ভেবেই এই মসলা-পাতি উদ্যোগ,” বলে তিনি জানান।

ফারজানা ইসলাম বলেন: আমার প্রথম পুঁজি ছিল মাত্র ৩,০০০ টাকা। বাড়িতেই আমার কারখানা, তবে একদিন মসলা-পাতির নিজস্ব কারখানা করার ইচ্ছা আছে। প্রতি মাসে ২০-২৫ টা রেগুলার মসলার অর্ডার থাকে। এর বেশিরভাগই আমার রিপিট কাস্টমার। মাসে আমার ২০-২৫ হাজার টাকা সেল হয়। আমার কাছে মুলত গৃহিণীরাই বেশি আসেন। বিশেষ করে যারা ভেজালমুক্ত মসলা চান তারা। আমার মসলার মধ্যে রয়েছে হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া। বেশি চাহিদা আমার রোস্ট মসলা, বিরিয়ানি মসলা ও শাহী গরম মসলার। আরও রয়েছে চাট মসলা, পাঁচফোড়ন গুঁড়া, এলাচ গুঁড়া, দারুচিনি গুঁড়া, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া, কালো গোল মরিচ গুঁড়া, শুকনা মরিচ ভাজা গুঁড়া (চিলি ফ্লেক্স)।

মসলা ছাড়াও শুটকি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কিশোরগঞ্জের বউ হবার সুবাদে ভালো মানের সব শুটকি নিয়ে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে তার। সরাসরি কিশোরগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা হয় এই শুটকি।

প্রতিবন্ধকতা নিয়ে উদ্যোক্তা বার্তাকে ফারজানা ইসলাম বলেন: ছোট ছোট চার সন্তান, স্বামী, সংসার, সামাজিকতা সবদিক সামাল দিয়ে নিজের উদ্যোগের জন্য কাজ করাটা খুব একটা সহজ নয়। অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েও নিজের ভালো লাগার জায়গা নিয়ে কাজ করাটা শান্তির। মানুষের নানান রকম কথা শুনেও তা উপেক্ষা করে এখন অব্দি কাজ করছি কেবল মাত্র মা-বাবা, স্বামী-সন্তানদের সহায়তায়। পারিবারিক সাপোর্ট পেলে সবই করা সম্ভব।

সহ-উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি নিজে একজন তরুণ উদ্যোক্তা। এখনও অনেক কিছুই জানি না, বুঝি না। অনেক কিছু শিখতে হবে আমাকে। আর সবার কাছে আশা করবো আমাদের পাশে থাকবেন। পুরনো উদ্যোক্তারা আমাদের পথ দেখাবেন। নতুনরাও ভালো কিছু করে সামনে এগিয়ে যাবেন। নতুন, পুরাতন উদ্যোক্তারা একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন যাতে করে আমরা সবাই সফলতা লাভ করতে পারি। দেশের উন্নতি সাধন করতে পারি।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ফারজানা ইসলাম পিংকি বলেন: আমার ইচ্ছা আছে “মসলা-পাতি”র মসলা একদিন সবার রান্নাঘরে স্থান দখল করে নেবে। ভেজালের ভিড়ে ভালো মানের ও ভেজালমুক্ত মসলার নির্ভরযোগ্য নাম হবে “মসলা-পাতি”।

আফসানা অভি,
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here