সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র এমএসএমই

0
8 / 100

আর্ন্তজাতিক এমএসএমই (কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোগ) দিবস আজ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে আরো এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে ২৭ জুনকে এমএসএমই দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ও সচেতনতা তৈরিতে সারা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে যা বাংলাদেশের উন্নয়নে দেশের এমএসএমই উদ্যোক্তাদের অবদানের স্বীকৃতির বড় প্রমাণ। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য: করোনার অভিঘাত পেরিয়ে জলবায়ু ও সংঘাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টেকসই উন্নয়ন।

বাংলাদেশে এমএসএমই শিল্প খাতকে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এ খাত কর্মসংস্থান, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন ও রপ্তানি আয় বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশে শিল্প খাতের মধ্যে এমএসএমই খাতে কর্মসংস্থানের পরিমাণ প্রায় ৮০ শতাংশ। বর্তমানে অর্থনীতিতে এমএসএমই খাতের অবদান ২৫ শতাংশ।

এসএমই নীতিমালা ২০১৯ অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যে এ খাতের অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত করার জন্য ২০০৭ সালে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয় যা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদন, বাজার সংযোগ তৈরি এবং দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য আজ সারা বিশ্বে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক)-ও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

এ খাতের আরও সম্ভাবনার জায়গা হচ্ছে কৃষি যা কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এসএমই খাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে কৃষি খাতে আরও অধিক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের বিকাশ ও প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার ক্ষেত্রে প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

উন্নয়নের মূল স্রোতে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে আসা ও তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

তবে, এসএমই খাতে টেকসই ও ব্যাপক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর অবকাশ সুবিধা প্রদান ও টার্নওভার প্রয়োজন। নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদও নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, কৌশল ও ঝুঁকি মোকাবেলার প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণকে প্রাধান্য দিয়ে এসএমই উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা প্রদানে অঞ্চলভিত্তিক ল্যাবরেটরি ও প্রসেসিং সেন্টার গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এছাড়া এসএমই রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য নগদ সহায়তা প্রদান করা, বৈদেশিক রপ্তানি বাজার নিশ্চিতকরণ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকল্পে এসএমই ব্যাংক স্থাপন এবং মহামারি কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ক্রাইসিস মিটিগেশন ফান্ড তৈরি করা যেতে পারে।

সর্বোপরি, এই খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার প্রণীত শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা ২০১৯, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, এসডিজি ২০৩০, রূপকল্প ২০৪১ এবং অন্যান্য নীতিমালা, কৌশলপত্র ও সরকারের নির্দেশনার আলোকে যথোপযুক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here