শেষ হলো হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল

0
উদ্যোক্তা বার্তা
হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল

রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজার পাশে শুটিং ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল ২০২২। চারদিন ব্যাপী এ মেলা শেষ হলো আজ শনিবার। এবারের মেলায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি ও প্রায় ২৮ লাখ টাকার পণ্যের অর্ডার পেয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান এমপি। সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান এবং ফেস্টিভ্যালের নানা দিক তুলে ধরেন অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশ (এএফডিবি) সভাপতি মানতাশা আহমেদ। ফেস্টিভ্যাল সম্পর্কে মাননীয় মন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান উদ্যোক্তা বার্তাকে বলেন, “এখানে আসা উদ্যোক্তাদের পণ্য অত্যন্ত উন্নত মানের। দিন দিন এই মান উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। এরপরেও তাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সহযোগিতা করব বলে আশ্বাস দিচ্ছি।”

haritage 2

বাংলাদেশ তাঁত ও বুনন শিল্পের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এদেশের এলাকা ভেদে বিভিন্ন ধরনের তাঁত, বস্ত্র ও কারুশিল্প বিকশিত হয়েছে। এর মধ্যে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী জামদানী, মিরপুরের বেনারসী শাড়ি, টাঙ্গাইলের তাঁত ও শাড়ী, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি ও তাঁত বস্ত্র, নকশীকাঁথা, কুমিল্লার খাদী, রাজশাহীর সিল্ক, মনিপুরি তাঁত ও রাঙ্গামাটির নৃ-গোষ্ঠির তাঁতপণ্য দেশজুড়ে বিখ্যাত। বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য ও কৃষ্টির অংশ ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্যের প্রস্তুতকারক ও শীর্ষস্থানীয় ডিজাইনারদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, বিলুপ্তি রোধকরণ এই মেলার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এসএমই ফাউন্ডেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশ (এএফডিবি) টানা চতুর্থবারের মত আয়োজন করেছে হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল। বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য ও কৃষ্টির অংশ হিসাবে দৈনন্দিন জীবনে ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বিলুপ্তি রোধ করার লক্ষ্যে এই আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

haritage 3

প্রায় ৫০টি স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হয় শাড়ী-লুঙ্গি-গামছা, খাদি, নকশিকাঁথা, বেনারসি শাড়ী, টাঙ্গাইল শাড়ী, জামদানি শাড়ী, শতরঞ্জি, পটচিত্র, রিক্সা পেইন্ট, জুয়েলারি, টেরাকোটা, পিতল, কাশা, শঙ্খ, মনিপুরী কাপড়, রাঙ্গামাটির চাকমাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কাপড় ও হস্তশিল্প পণ্য, পাটজাত, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য। ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন, ডিজাইনার, শিল্পী, তাঁতীসহ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উদ্যোক্তারা। মেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে মম জামদানী হাউজের উদ্যোক্তা আবুল কালাম জানান, “এই মেলা আয়োজনে স্থান অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। মেলা সকল উদ্যোক্তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে। ভবিষ্যতেও এমন মেলা প্রয়োজন।”

মশিউর শাফী,
ডেস্ক রিপোর্ট, উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here