শিশির পড়ছে, আমি ট্রাকে ঘুমাচ্ছি পণ্য নিয়ে খোলা আকাশের নিচে

0

ফরহাদ হোসেন মুন্সি, ব্যবসায়িক পরিবারের ছেলে হয়েও অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করবার সময় বাবা আব্দুল খালেক মুন্সি বলেছিলেন, নিজে একটা কিছু করে দেখাও। সে সময় ছোট্ট ছেলেটি কাজ শুরু করলো, ব্যবসা শুরু করলো। বাবা ৩ লক্ষ টাকা দিলেন। ছোট চাচার সঙ্গে ঢেউ টিনের ব্যবসা  শুরু করলো। পড়াশোনা, ক্লাস করে এসে দোকান খুলে একটু ব্যবসা দেখা। ব্যবসা বন্ধ হয়েগেলো, ব্যবসায় লস খেলেন। ১৯৯৭ সালে আবুল হোসেন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া অবস্থায় পরিবারের কিছু জমি পেলেন, সেই জমিগুলো দিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা লোন নিলেন ব্যাংক থেকে। নতুন ব্যবসা শুরু হলো। ঢাকা আসা যাওয়া, ঢেউ টিন, চাল, আর সারের ব্যবসা। ২০০ টাকা দিয়ে ঢাকা আসা যাওয়া করেন।

Untitled 27

চিত্রঃ উদ্যোক্তা ফরহাদ হোসেন মুন্সি

উদ্যোক্তার সফলতার গল্প দেখুন ইউটিউবে-দেখতে ক্লিক করুন

বাবা হজ্বে গেলেন, বাবা কে সবসময় সন্তুষ্ট করতে চেয়েছেন ছেলে। চালের একটা ব্যবসা হলো। প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার ব্যবসা। বাবা হজ্জ থেকে ফিরে আসলে, বাবা কে ছেলে বললেন প্রথম বিল্ডিং করবার কথা। বাবা রাজি হলেন। বিল্ডিং বানাতে বানাতে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা দেখেন। টরকীর চরে- রড, সিমেন্টের শো-রুমটিও দিয়ে দিলেন ফরহাদ হোসেন। ব্যবসা হলো দারুন।

i

চিত্রঃ উদ্যোক্তা তার কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন

২০০২ সালে ব্যবসা নিয়ে আসলেন টরকী বাস স্ট্যান্ডে। ঢাকা-বরিশাল মহা সরকে। সুপার বাম্পার ব্যবসা হলো। ডিগ্রি পাশ করে ফেলেছেন তরুন ফরহাদ হোসেন। দীর্ঘ  ৭ বছর গবেষনা চললো।  দিনাজপুর অটো রাইস মিলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছ থেকে  মিললো ব্যবসার সু পরামর্শ। জনাব রহিম, মুরুব্বি হিসেবে দিলেন একটি দিক নির্দেশনা। ব্যবসার টাকা জমিয়ে তরুণ ফরহাদ হোসেন প্রতিষ্ঠা করলেন ‘এলাহি অটো রাইস মিল’।

h 1

চিত্রঃ উদ্যোক্তার অটো-রাইস মিল

২০১৪ সালে ‘এলাহি অটো রাইস মিল’ প্রতিষ্ঠা হলো। ২০০ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হলো অটো রাইস মিলে। প্রতিদিন ৯৬ মেট্রিক টন ধান ক্র্যাশিং, অর্থাৎ ১২০০ বস্তা চাল প্রতিদিন। পেছনে ফিরে তাকাবার বা সফলতার কথা ভাববার আর কোন দিক খুঁজতে হয়নি তরুন ফরহাদ হোসেন মুন্সির। ভোক্তাদের চাহিদা বাড়তেই থাকে, প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি বাড়াতে বাধ্য হলেন উদ্যোক্তা। বরিশালের একমাত্র সম্পূর্ণ অটোম্যাটেড রাইস মিল। ২ বছরে কর্মী সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় প্রায় দ্বিগুণ। উদ্যোক্তা তৈরি করলেন ব্যবসা স্থাপনা। একের পর এক প্রায় ১৮টি স্থাপনা। যেখানে কি না শত শত উদ্যোক্তা তাদের নানান উদ্যোগে ব্যবসা সাজাচ্ছেন। অলিম্পিক সিমেন্ট, বি এস আর এম রড, অলিম্পাস সিমেন্টের প্রথম থেকে বর্তমান পর্যন্ত ৪টি থানার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিবিউশন হাব, তৈরি করেছেন পণ্য পরিবহনের ব্যবসা, রকেট মোবাইল ব্যাংকিং।

g

চিত্রঃ উদ্যোক্তার অফিসে আলোচনা পর্ব

তরুন উদ্যোক্তা আজ এক সফল উদ্যোক্তা হয়ে তার অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান, পরামর্শ, আর্থিক পরামর্শ দিয়ে, তৈরি করছেন অনেক তরুণ উদ্যোক্তাকে। শুধু মাত্র নিজের উন্নয়ন নয়, মানুষের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন উদ্যোক্তা। মাত্র  ৩ লক্ষ টাকা, বাবার আশীর্বাদ। ৮০০ জন কর্মী  নিয়ে কর্মসংস্থান করেছেন উদ্যোক্তা এবং আজ ব্যবসা পরিচালনা করছেন সফল উদ্যোক্তা হয়ে তার ব্যবসা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here