যুব পুরষ্কার জয়ী উদ্যোক্তা রিমা

0

কিশোরগঞ্জের মেয়ে জনাব রিমা আক্তার। বাবা আবুল হাশেম পেশায় একজন কৃষক। তিন ভাই-বোনের সংসারে রিমা আক্তার ছিলেন তৃতীয়। পড়াশোনায় ভালো থাকায় বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল তিনি সরকারি চাকুরিজীবি হবেন। কিন্তু তার ইচ্ছা ছিল ভিন্ন। তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যেখানে নিজে আয় করবেন এবং সেইসাথে অসংখ্য মানুষের আয়ের সুযোগ করে দিতে পারবেন।

ছোটবেলা থেকে হাতের কাজে ভালো ছিলেন বলে পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের কাছে প্রশংসা ছিল। পঞ্চম শ্রেণীতে পরা অবস্থায় নিজের তৈরি করা ড্রেস পড়েছিলেন রিমি। এইচএসসি পাস করার পর রিমি চেয়েছিলেন পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে কিছু একটা করার। কিন্তু পরিবারের কাছে ইচ্ছা পোষণ করলে তার মা তাতে রাজি হননি। ভয় শুধু একটাই লোকে কি বলবে! শুধু তাই নয় ব্যবসা শুরুর জন্য ৫০০০ টাকা চেয়েও পাননি তিনি পরিবারের কাছ থেকে। রিমি তার সিদ্ধান্তে অটল। তিনি পিছু না হটে পরিকল্পনা আরো দৃঢ় করেন।

2 14

খালার সহযোগিতায় শহরে একটা বাসা ভাড়া নেন রিমি, শর্ত থাকে যে এর বিনিময়ে দুই ছেলে মেয়েকে পড়াশোনা করাতে হবে। ভালোই চলছিলো সবকিছু কিন্তু কিছুদিন পর সেই সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যায় কাজের ব্যস্ততার কারণে । হাতে মাত্র ১০ হাজার টাকা।কী করবেন এখন এই চিন্তায় দিশেহারা উদ্যোক্তা। মা জানান শহরে এখন আর কোন কাজ নেই গ্রামে চলে আসার জন্য।
কিন্তু উদ্যোক্তার আত্মবিশ্বাস তিনি পারবেন তার লক্ষ্যে পৌছাইতে। সেই ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের জোরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন যুব উন্নয়ন থেকে।প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে ওই মাসেই অংশগ্রহণ করেন বাসায় থাকা কিছু পণ্য আর হাতে থাকা সেই ১০০০০ টাকার পণ্য নিয়ে।স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। মেলায় অংশগ্রহণ ছিল উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। ৩০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রয় সহ ১ লক্ষ টাকার অর্ডার পান তিনি।ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল। টার্গেট ছিল বড়, অর্ডার নিতে হবে কাজ পেতে হবে এই লক্ষ্যে অবিচল ছিল উদ্যোক্তা রিমা।দিনরাত পরিশ্রম করে কাজ করেছেন এই উদ্যোক্তা। পণ্য উৎপাদনের জন্য কর্মী সংখ্যা বাড়াতে হয়। ধীরে ধীরে তার মূলধন বাড়তে থাকে।

3 13


বর্তমানে রিমি ফ্যাশন এর নিজস্ব শোরুম, কারখানা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়াও রিমি গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড নামে একটি বিউটি পার্লার রয়েছে। বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য দেশজোরে পরিচিত নাম রিমি।
পাশাপাশি ট্রেনার হিসেবে পরিচিত রিমা শুধু দেশে নয় নেপালেও রয়েছে তার প্রশিক্ষনার্থী। বর্তমানে রিমার পণ্য ইংল্যান্ড ইতালিসহ নেপালে রপ্তানি হচ্ছে।
তার বর্তমান মূলধন ৩০ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নিট আয় ১২ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। বর্তমানে তার প্রকল্পে ৩১৮ জন স্থায়ী অস্থায়ী কর্মী রয়েছে। তিনি আত্মকর্মী গড়ে তোলার প্রয়াসে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রায় এক হাজার নারীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
আত্মকর্মসংস্থানে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সফল আত্মকর্মী রিমা আক্তার কে জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২১ প্রদান করা হয়। বাবা-মা সহ পুরো ফ্যামিলির সাপোর্ট এখন রিমা আক্তার এর পাশে।এলাকার বাবা-মা এখন তাদের সন্তানদের বলে রিমার মতো হও। কাজকে ভালবাসলে কাজেই সম্মান এনে দিবে বলে বিশ্বাস করেন আমাদের এই তরুণ উদ্যোক্তা রিমা আক্তার।

মার্জিয়া মৌ
উদ্যোক্তা বার্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here