বাকপ্রতিবন্ধী হোলেও রঙ তুলিতে সরব গোলাম রাব্বানী

0
চিত্রশিল্পী গোলাম রাব্বানী

চিত্রশিল্পী গোলাম রাব্বানী, কখনো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কখনো মা-ছেলে আবার কখনো বা খেয়াপাড়ি দেওয়ার দৃশ্য ফুটিয়ে তুলছেন তার রংতুলির আঁচড়ে। পড়াশোনা করছেন রাজশাহী আর্ট কলেজের ড্রয়িং এন্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্টে। তার সহপাঠিরা শিক্ষকদের কথা শুনে এবং দেখে আয়ত্ব করলেও গোলাম রাব্বানী শুধুমাত্র দেখেই আয়ত্ব করেন। কারণ এই চিত্রশিল্পী বাকপ্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই শুনতে এবং বলতে পারেন না তিনি।

oishi 1

ইতোমধ্যে এই চিত্রশিল্পী তার বেশ কিছু কাজের জন্য প্রশংসাও কুড়িয়েছেন ব্যাপক। তার থেকে বেশকয়েকজন কাজ ও করে নিয়েছেন। খুব শীঘ্রই রাজশাহী আর্ট কলেজে এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত হবে সেখানেও এই চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্ম থাকবে। এবং সেখানে তার পুরস্কার প্রাপ্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া বাংলাদেশ ভারত পঞ্চম সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় অংশ নেওয়া রাজশাহী আর্ট কলেজের স্টলে উদ্যোক্তা বার্তার সাথে কথপোকথন এর সময় গোলাম রাব্বানী তার ইশারা ভাষায় ভবিষ্যতে নিজেকে পুরোদস্তুর উদ্যোক্তারুপে দেখতে চাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। সামাজিক পাতাই এখনো তার কোন পেজ না থাকলেও ‘গোলাম রাব্বানী’ নামে সামাজিক পাতাই যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেখানেই তিনি তার কাজগুলো প্রদর্শন করে থাকেন।

oishi 2

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হওয়ায় গোলাম রাব্বানীকে তার বাবা-মা ছোটবেলাতে ভর্তি করেছিলেন রাজশাহীর হাইকেয়ার স্কুলে। অক্ষর চেনা, লেখা, কথাবলা চেষ্টার দুইবছরের এই কোর্সটি একবছরেই আয়ত্ব করে ফেলেছিলেন তিনি। কোর্সটি সম্পূর্ণ হলে তাকে নিয়ে পিতা ছাইদুর রহমান খান আবারো জন্মস্থান নওগাঁতে চলে যান। সেখান থেকেই প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পাস করেন এই চিত্রশিল্পী। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী আর্ট কলেজে ভর্তি হন। চিত্রশিল্পী গোলাম রাব্বানীর পিতা উদ্যোক্তা বার্তাকে বলেন ‘ছেলে আমার শুনতে বা বলতে না পারলেও দেখে দেখে পড়াশোনা করতো। ফলাফল ও করতো দুর্দান্ত। সে যখন হাইকেয়ার স্কুলে ছিলো তখন থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক ছিল তার। এছাড়াও সে অনেক উন্নয়নমূলক কাজেও অংশ নেয়। ভবিষ্যতে আমার সন্তান আরো ভালো করুক এটাই আমার চাওয়া।’

তামান্না ইমাম,
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here