বাংলাদেশে নতুন পদ্ধতির হাইড্রোপনিক

0
উদ্যোক্তা মমিনুজ্জামান

অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা পোস্টমাস্টার মমিনুজ্জামান। অবসরোত্তর সময়ে ভালো কিছুর সাথে থাকতে হবে এই প্রত্যাশা নিয়ে নানা পরিকল্পনা, নানা আয়োজন করেন। প্রথমে তিনি স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু খানে আলম মানিকের সাথে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন, কী করা যায়? বন্ধু মানিক ছিলেন অ্যাকোয়াপনিক্স-এর উপর চরম পারদর্শী। আলোচনার একপর্যায়ে তারা একমত হন যদি জায়গা ও পরিবেশ পান তাহলে তারা অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষ শুরু করবেন।

একটা লম্বা সময় তারা দুজন মিলে এটা নিয়ে মানসিক প্রস্তুতি নেন। কিন্তু কাজের জন্য জায়গা ও একজন সমমনা মানুষের প্রয়োজন বোধ করেন। একদিন সকালে হাটতে হাটতে তার মামা মিজানুর রহমানের সাথে প্রসঙ্গটা পাড়লেন। উনি একজন শিক্ষক এবং উনারও অবসর সন্নিকটে। মমিনুজ্জামান বললেন, ‘মামা আপনার তো জায়গা আছে, দুজনে মিলে আমরা এটা করতে পারি কি না?’ উনি কোনো কিছু না জেনেই বললেন, ‘আপনি যেহেতু বলছেন, আমি রাজি।’ শুরুটা তাদের এভাবেই।

hafiz 1

বন্ধু মানিকের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্তে আসলেন, প্রথমে তারা পরিক্ষামূলক ভাবে আগে এটা করে দেখবেন তারপরে বড় পরিসরে যাবেন। একটা শীত মৌসুমে তারা মাত্র ৩০-৪০টা গাছ নিয়ে ছোট্ট পরিসরে চাষ শুরু করলেন। শুরুতেই তারা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাফল্য পেলেন। সাহস পেলেন বড় পরিসরে কিছু করতে। তারপর ৪ শতাংশ জমির উপর ৫ লাখ টাকা খরচ করে একটা বড় পলি শেড তৈরি করে অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে চাষ শুরু করলেন। কিন্তু বেশ কিছু অভিজ্ঞতার ঘাড়তি ও বিদ্যুতের সমস্যার কারণে তারা একপর্যায়ে এটা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন।

যদিও অ্যাকোয়াপনিক্স-এ তারা ভালো ফলাফল পাচ্ছিলেন কিন্তু ঝুকিপূর্ণ মনে করে তারা অ্যাকোয়াপনিক্স বাদ দিয়ে হাইড্রোপনিক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে এখন পর্যন্ত দুইবার ফসল উৎপাদন করেছেন। বিষমুক্ত ফসল প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে তারা এটা করছেন। গত দুই বছর ধরে তারা হাইড্রোপনিকের নানা কলাকৌশল রপ্ত করেছেন। আগে তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা সংগ্রহ করতেন। কিন্তু সে সব চারায় নানা ধরণের রোগ দেখা দিতো। এখন তারা নিজেরাই হাইড্রেফনিক পদ্ধতিতে চারা তৈরি করছেন এবং তাতে ভালো ফল পাচ্ছেন।

hafiz

হাইড্রোপনিক সম্পর্কে আমাদের যে প্রচলিত ধারণা আছে তা হচ্ছে, পানির উপরে ফসল উৎপাদন, পাইপের ভিতরে কোকোপিট দিয়ে গাছ লাগানো। কিন্তু তাতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। কারণ প্রতিবছর মিডিয়া পরিবর্তন করতে হয়। প্রচলিত হাইড্রোপনিক চাষের চেয়ে উদ্যোক্তা মমিনুজ্জামানদের হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে বেশ কিছু ভিন্নতা আছে। যেহেতু তারা আগে অ্যাকোয়াপনিক্স চাষ করেছেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা মিডিয়া হিসেবে কোকো পিটের পরিবর্তে খোয়া(ইটের টুকরো) ব্যাবহার করেছেন। যেটা অনায়াসে ২০-২৫ বছর ধরে ব্যবহার করা যাবে। গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে এমন পদ্ধতির হাইড্রোপনিক আর কোথাও নেই। এপর্যন্ত তারা তাদের এই প্রকল্প নিয়ে প্রায় ৫’শ জন লোকের সাথে কথা বলেছেন। বর্তমানে তারা তাদের পলি শেডে ৬টি বেডে সাত’শ টমেটো গাছ লাগিয়েছেন। এখান থেকে এক মৌসুমে আড়াই টনের উপরে টমেটো পেয়েছেন। তাতে বছরে দুই মৌসুমে ৩ লাখ টাকার উপরে টমেটো পাবেন বলে তারা আশাবাদি। উদ্যোক্তা বার্তার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উদ্যোক্তা মমিনুজ্জামান জানান, ‘বানিজ্যিক ভাবে তাদের এই নতুন পদ্ধতির হাইড্রোপনিক চাষ বেশ সম্ভাবনাময় এবং প্রচলিত ধারার চেয়ে দশগুণ সাশ্রয়ী। বর্তমানে আমরা এই কাজের মধ্যে কর্ম জীবনের চেয়ে অনেক ভালো সময় পার করছি।’

সাইদ হাফিজ,
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here