ফুল-ফল-আসবাবে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সুসংবাদ

0
8 / 100

আমদানি ব্যয় হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আরও বেশি নীতি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বিদেশী ফল, ফুল, আসবাবপত্র ও প্রসাধন জাতীয় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের উপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান শূন্য ও তিন শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (রেগুলেটরি ডিউটি) আরোপ করা হয়েছে।সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়েছে।

এনবিআর জানায়, আমদানি নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং বিলাসবহুল পণ্যের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে এই সিদ্ধান্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, বাংলাদেশ ফুল ও ফল চাষে যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী। তাই নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে দেশীয় ফুল ও ফল চাষীরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ফুল ও ফল চাষে উৎসাহিত হবেন। এতে দেশের প্রান্তিক চাষীরা লাভবান হবেন এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে।

এনবিআর বলছে, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত আসবাবপত্র ও প্রসাধন সামগ্রী যথেষ্ট মানসম্পন্ন এবং দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। আসবাবপত্র ও প্রসাধনীর উপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে বিদেশী পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি এ ধরণের পণ্যের অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা পণ্যের তালিকায় আরও আছে গাড়ি ও গাড়ির ইঞ্জিন, যন্ত্রাংশ, রড ও লোহাজাতীয় পণ্য, সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ফ্ল্যাই অ্যাশ, চাল এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য।

কাঠ ও লোহার আসবাব এবং আসবাবের কাঁচামাল, পিকআপ ও ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যানে ২০ শতাংশ এবং গাড়ির ইঞ্জিনে ১৫ শতাংশ হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসেছে। এছাড়া টায়ার, রিম ইত্যাদির ওপর ৩ থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।

নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত রড, বিলেট ইত্যাদির উপর ৩ থেকে ১০ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতের অন্যতম কাঁচামাল ফ্লাই অ্যাশ আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে।

অন্যদিকে পারফিউম, চুল ও তকের যত্ন নেওয়ার সামগ্রী, সেভ করার সামগ্রী, ইত্যাদি প্রসাধনসামগ্রীর উপর ২০ শতাংশ হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক দিতে হবে। অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন, প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী আমদানি করতেও ১৫ শতাংশ হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে। ফাইবার অপটিক ও বিভিন্ন ধরনের তারে শুল্ক বসেছে ৩ থেকে ১০ শতাংশ।

এছাড়া আম, আপেল, তরমুজ, বাদামসহ বিভিন্ন রকমের ফলের উপর ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসিয়ে এনবিআর বিদেশী ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here