পরিবেশ বান্ধব চিন্তা নিয়ে উদ্যোক্তা নাবিলার যাত্রা শুরু

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাবিলা আঞ্জুম। কিন্তু হঠাৎ করেই পুরো বিশ্ব যেন থমকে গেল করোনা মহামারীতে। একদিকে লকডাউন, অন্যদিকে চাকরি হারানো মানুষের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়তে থাকে। কাজ হারানো মানুষের জন্য কিছু করার এক তীব্র ইচ্ছে থেকেই নাবিলা আঞ্জুমের উদ্যোক্তা জীবনের শুরু।

রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ব্যবসায়ী জনাব এরশাদুল হকের মেয়ে নাবিলা আঞ্জুম। করোনাকালীন সময়ে নিজে কিছু করবেন বলে সিদ্বান্ত নেন। পরিবেশ নিয়ে চিন্তা ছিলো ভার্সিটিতে পড়ার সময় থেকেই। তাই পরিবেশ বান্ধব দেশি পণ্য নিয়ে কাজ করবেন বলে সিদ্বান্ত নেন। প্রথমে ছোট বোনকে সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানান তারপর বড় বোনকেও সাথে নেন। প্রথমে বড় বোনের আগ্রহ না থাকলেও তাদের ইচ্ছাশক্তি তাকে হার মানিয়ে দেয়।

jute 2


বাবার কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তিন বোন মিলে শুরু করেন এক উদ্যোগ। দেশীয় পন্য পাট,বেত এবং বাঁশের তৈরি নানা রকম পন্যের পসরা নিয়ে শুরু হয় তিন বোনের দেশি পণ্য। দেশি পণ্য নামক অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে আসছে। বড় বোন দিলারা খাতুন প্রোডাকশন এর কাজ দেখাশোনা করেন,ছোট বোন তাসনুভা ইয়াসমিন অনার্স এ পড়াশোনার পাশাপাশি অর্ডার নেয়া ও অন্যান্য দেখাশোনা করে থাকে এছাড়া তাদের বাবা কয়েক জন কর্মী সহ ডেলিভারির বিষয় টা দেখাশুনা করেন। আর উদ্যোক্তা নাবিলা আঞ্জুম মার্কেটিং ও অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখেন।

jute 1

পাট জাতীয় পণ্য,বাঁশ ও বেতের পন্যের বেশ চাহিদা রয়েছে।পাটের তৈরি ফ্লোরমেট,পেট বাস্কেট,বেতের তৈরি মোড়া, লন্ড্রি বাস্কেট, ব্যাগ,বাঁশের চিক বা পর্দা, শিকা এছাড়াও শতরঞ্জি নিয়ে কাজ করছেন উদ্যোক্তা নাবিলা আঞ্জুম। জুট প্রোডাকশন এ প্রায় ৩০জন নারী এবং বাঁশের চিক নিয়ে প্রায় ২০ জন পুরুষ কাজ করছেন। অর্ধশতাধিক কর্মী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তিন বোনের দেশি পণ্য। মাসে প্রায় ১০০ থেকে ৫০০ পিছ পাট জাতীয় পণ্য এবং ৩/৪ হাজার স্কয়ার ফিট বাঁশের চিক প্রোডাকশন করা হয়।মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকার পন্য সেল হচ্ছে দেশি পণ্য থেকে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে তিন বোনের পাট পণ্য।

jute 3

উদ্যোক্তা নাবিলা আঞ্জুম বলেন, ‘আমি আমার উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি – এটা আমার কাছে অনেক আনন্দের। আমি মনে করি সাফল্য পেতে হলে-
কাজকে ভালোবাসতে হবে। মন থেকে একাগ্রতার সাথে লেগে থাকতে হবে। আর প্রোডাক্ট কোয়ালিটি, কাস্টমার সার্ভিসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে’

সেতু ইসরাত
উদ্যোক্তাবার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here