পদ্মা সেতু: পর্যটনশিল্পে এক নতুন দ্বার উম্মোচন করবে 

0
4 / 100

আগামী ২৫ জুন উদ্বোধনের পরদিন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এতে দেশের সড়ক যোগাযোগে উন্মুক্ত হবে এক নতুন দিগন্ত যেখানে সেতুকে ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নানা পরিকল্পনা করেছে সরকার। আছে বেসরকারি উদ্যোগও। পদ্মার দুই পাড়েই গড়ে উঠছে নতুন নতুন হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট।

এই সেতুকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায়।ইতোমধ্যেই পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মা পাড়। অনেক স্থানেই গড়ে উঠেছে রেস্টুরেন্ট, হোটেল, মোটেলসহ বিলাসবহুল বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারিভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে জাজিরায় জমি ক্রয় করে তাদের কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু করেছে।

পদ্মা সেতুর ল্যান্ডিং পয়েন্ট জাজিরার নাওডোবায় শেখ হাসিনা তাঁতপল্লির কাজও চলমান রয়েছে। দক্ষিণ পশ্চিামাঞ্চলের মানুষের বহু কাঙ্খিত পদ্মা সেতু চালু হলে শুধু যোগাযোগই নয়, পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি ব্যাবসা-বাণিজ্যেও অনেক দূর এগিয়ে যাবে শরীয়তপুরের মানুষ।

দক্ষিণাঞ্চলে অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, যা ভ্রমণপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে থাকে। বাংলাদেশে তিনটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ ও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। ষাটগম্বুজ মসজিদ, খান জাহান আলী মাজারসহ বিভিন্ন স্পট রয়েছে সেখানে। এসব দেখতে হলে আসতে হতো ফেরি পারি দিয়ে। তাতে ছিল চরম ভোগান্তি, অর্থ এবং সময়ের অপচয়। সেতু চালু হলে এসব পর্যটন এলাকায় গাড়ি যাবে সরাসরি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনীয় স্থান দেখতে চাইলে এখন মিলবে সহজ যোগাযোগ সুবিধা।

সুন্দরবন, কুয়াকাটা, ষাটগম্বুজ মসজিদের মতো অনেক পর্যটন কেন্দ্র ওই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার কিছুটা সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষের কাছে অনাগ্রহের বিষয় ছিল। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে এখন তা নাগালের মধ্যে চলে আসবে। এসব পর্যটন কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করে তা থেকেও রাষ্ট্র প্রচুর অর্থ আয় করতে সমর্থ হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন আকর্ষণগুলোর মধ্যে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ, ভাসমান পেয়ারা বাজার, ঐতিহাসিক দুর্গা সাগর, কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইন্সটিটিউট, খান জাহান আলী সেতু, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর, জাতিসংঘ পার্ক, দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের মাজার, রূপসা নদী, শহীদ হাদিস পার্ক, খানজাহান আলী কর্তৃক খননকৃত বড়দীঘি, খুলনা শিপইয়ার্ড, গল্লামারী স্মৃতিসৌধ ও বধ্যভূমি, জাহানাবাদ বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্ক, পিঠাভোগ, প্রেম কানন বকুলতলা, মংলা পোর্ট, রাড়ুলী, রেলস্টেশনের কাছে মিস্টার চার্লির কুঠিবাড়ি, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক ও অন্যান্য পর্যটন আকর্ষণগুলোর চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়বে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পর্যটনের মানচিত্র পাল্টে দেবে পদ্মা সেতু। দ্রুততম সময়ে যাওয়া যাবে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও সাগরকন্যা কুয়াকাটা। লঞ্চে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পৌঁছাতে সময় লাগে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। তবে পদ্মা সেতু হয়ে গেলে অর্ধেক সময়েই পৌঁছানো যাবে। গত বছরের অক্টোবরে পটুয়াখালীর লেবুখালী সেতুর উদ্বোধন হওয়ায় এ যাতায়াত আরও সহজ হবে। 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পদ্মা সেতুকে ঘিরে পদ্মার দুই পারে সিঙ্গাপুর ও চীনের সাংহাই নগরের আদলে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেতু ঘিরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কনভেনশন সেন্টারও গড়ে উঠবে। ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পগুলোকে আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন করার ভাবনাও রয়েছে। তাছাড়া সুপরিকল্পিতভাবে আধুনিক মানের হোটেল-মোটেল রিসোর্ট গড়ে তোলার কথাও বলা হচ্ছে। এসব দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো, স্থাপনা, আবাসন পর্যটন খাতের চেহারা পাল্টে দেবে। ঢাকার সাথে মংলা বন্দর, বরিশাল, কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, খুলনা, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য জেলার অর্থনৈতিক খাতে এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধেও যাওয়া যাবে খুব অল্প সময়ে।

সেতু ইসরাত
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here