চামড়াজাত পণ্যে স্বপ্ন জয় উদ্যোক্তা বিথীর

0

ডিয়ার লেদারের উদ্যোক্তা ফরিদা ইয়াসমিন বিথী। একটা স্বপ্নকে লালন করে কাজ করে যাচ্ছেন তাকে বাস্তবে রূপ দিতে। তার সাথে সাথে দেশীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারেও পরিচয় করাতে চান তিনি।

পাবনার মেয়ে বিথী পড়াশুনা চালিয়ে যান নিজের জেলা শহরেই। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে সামাজিক বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন তিনি। নিজে কিছু করার ইচ্ছা উদ্যোক্তার। উদ্যোক্তা হয়ে নিজের, পরিবারের ও সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুপ্ত ইচ্ছা ছিল তার ভেতরে।

shafi 2

ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল প্রতিভাবানদের জন্য কিছু করার। যারা কাজ পাচ্ছে না কিন্তু খুঁজছে, তাদের জন্য কিছু করার আগ্রহ তার ভেতরে অনেক আগে থেকেই। এব্যাপারে উদ্যোক্তা বিথী বলেন, “যারা বেকার তাদের জন্য কিছু করতে আমি সদা উদ্যোগী।আশেপাশে অনেক প্রতিভাবান ছেলেমেয়ে আছে যারা কাজ পাচ্ছে না। তাদের জন্য আমাকে কিছু করতেই হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমার উদ্যোগ শুধু আমার নিজের জন্য নয়। অসংখ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি নতুন কিছু গঠন করতে চাই।”

ফরিদা ইয়াসমিন বিথী একটি স্কুলে চাকরি করতেন। কভিড-১৯ মহামারীতে যখন পুরো বিশ্ব স্থবির উদ্যোক্তা ফরিদা ইয়াসমিন বিথীও তার চাকরি হারালেন। আবার, তিনিও করোনা আক্রান্ত হলেন। তবে, করোনা আক্রান্ত হবার পাশাপাশি চাকরি হারালেও মনোবল হারান নি। বরং, পূর্ণ উদ্যোমে ঝাঁপিয়ে পরলেন উদ্যোগ নিয়ে। চামড়া প্রসেস করে, সেগুলো কেটে, সেলাই করে দিলেন এক নতুন রূপ। তৈরি হলো নতুন এক চামড়াজাত পণ্য। সাথে উন্মোচন হলো স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার এক নতুন দিগন্ত। স্বপ্নটার নাম ‘ডিয়ার লেদার’।

স্বামীই তার প্রধান অনুপ্রেরণা। স্বামীর সহযোগিতায় লেদার বা চামড়াকে অবলম্বন করে তার যাত্রাপথের শুরু। স্বামীর চামড়াজাত পণ্যের উপরে ট্রেনিং করা ছিল আগে থেকেই। তাই, তার আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে স্ত্রীকে দিয়েই এগিয়ে নিচ্ছেন এক নতুন কর্মভূবনকে। স্ত্রী উদ্যোক্তা ফরিদা ইয়াসমিন বিথীও বিসিক থেকে চামড়ার উপরে কোর্স করলেন। এবার তিনিও ঝাঁপিয়ে পরলেন স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে।

shafi 1

ডিয়ার লেদারে চামড়াজাত পণ্যের ভেতরে আছে ব্যাগ, বেল্ট, মানিব্যাগ, চাবির রিং, পেন হোল্ডার, ডায়েরি হোল্ডার সহ সব ধরণের পণ্যই তৈরি করেন উদ্যোক্তা। পাশাপাশি, খুব দ্রুত চামড়াজাত জুতা স্যান্ডেলের দিকেও এগোবেন তিনি। তার কর্মভূবনে নিয়মিত ৫-৬জন কর্মী কাজ করেন। এছাড়াও চাহিদা মতো চুক্তি ভিত্তিক আরও কর্মীও কাজ করেন তার উদ্যোগে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে উদ্যোক্তা ফরিদা ইয়াসমিন বিথী বলেন, “আমার ইচ্ছা আছে আমার এখানে কারখানা আরও বড় করতে চাই। যাতে দুই তিনশো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দিতে পারি। এবং পাশাপাশি এটাও চেষ্টা করবো যাতে পণ্যের গুণগত মান প্রতিদিন বৃদ্ধি করা যায়। সারা দেশের মানুষ এক নামে ডিয়ার লেদারকে চিনবে এটাই আমার মূল লক্ষ্য।” তিনি বলেন, “আমি সরাসরি দেশের বাইরেও পণ্য পাঠাতে চাই। বিশ্ব বাজারে দেশীয় প্রোডাক্টকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।”

মশিউর শাফী,
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here