চাকরির পেছনে না ছুটে যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হতে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ

0
8 / 100

যুবসমাজকে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি আজ আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২২ উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেন, এখনকার শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা পড়াশোনা শেষ করেই চাকরির পেছনে ছুটে। অথচ সবার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা একেবারেই অসম্ভব। এর একমাত্র বিকল্প হচ্ছে শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।’

শিল্প মন্ত্রণালয় ও এসএমই ফাউন্ডেশনের এই আলোচনায় বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা শুধু নিজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন না, অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন।

উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঋণপ্রাপ্তিসহ সকল সুযোগ-সুবিধা হয়তো এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তবে এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অর্থাৎ এমএসএমই’র গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এমএসএমই খাতের উন্নয়ন ও বিকাশের মাধ্যমে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সুষম উন্নয়ন সম্ভব।’

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন বর্তমান সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি ও পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে শিল্পায়নে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বিগত ১৩/১৪ বছরে দেশে বৃহৎ ও ভারী শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।

অর্থনীতির অন্যান্য সূচকেও দৃশ্যমান উন্নতি ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলেই সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক নারী এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন করে ব্যবসায় মনোনিবেশ করছেন যা নারীর কর্মসংস্থান, ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে।

রাষ্ট্রপতি আশা করেন, এ সকল পদক্ষেপ ও কর্মসূচির কারণে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা সৃজন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হবে।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ আছেন তারা ব্যবসা শুরু করেই রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফান নানা অজুহাতে তারা পণ্যের মূল্য অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেন।’

তিনি উদ্যোক্তাদের রাতারাতি বড়লোক হবার মানসিকতা ত্যাগ করার আহ্বান জানান এবং নিজের ব্যবসার স্থায়িত্বের জন্য সততার সাথে এবং ক্রেতার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনার পরামর্শ দেন।

ব্যবসাকে একটি মহৎ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলে, কিছু অসাধু ব্যক্তির জন্য যাতে গোটা ব্যবসায়ী সমাজের সুনাম ক্ষুণ্ন না হয় সে ব্যাপারেও ব্যবসায়ীদের সজাগ থাকতে হবে এবং সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

রাষ্ট্রপ্রধান বলে, সরকারের ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব নীতি ও পদক্ষেপের কারণে দেশে উদ্যোক্তা উন্নয়নের একটি অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘যুব সমাজের একটি বড়ো অংশকে যদি উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা যায় এবং তাদের জন্য ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।’

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

ডেস্ক রিপোর্ট
উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here