উদ্যোক্তা- তিলোত্তমা মেহজাবিন
Advertisement

প্রত্যেক সফল মানুষেরই জীবনে একটি গল্প থাকে। তাকে ঐ সফলতার জন্য অনেক কষ্ট ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হয়েছে। পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক কণ্টকাকীর্ণ পথ। যাদের পরিশ্রমের ফল আমরা দেখতে পাই। কিন্তু হয়তো আমরা অনেকেই তাদেরকে জানিনা কিংবা চিনিনা। আজকে উদ্যোক্তা বার্তায় চেনা-অচেনার মাঝে পরিচয় করিয়ে দিবো তিলোত্তমা মেহজাবিনকে। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মেয়ে। বি. বি. এ পড়াশোনা করেছেন আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি থেকে। উদ্যোক্তা হয়ে উঠার পিছনে তিলোত্তমার পরিবার তাঁকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। পরিবার তাকে দিয়েছে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও সাহস।

গহনা মানেই যে বিভিন্ন ধাতুর তৈরী হবে সে দিন চলে গেছে। সোনা, রূপা ছাড়াও অন্যান্য ধাতুর তৈরী কস্টিউম জুয়েলারির চল প্রায় সর্বত্র। সোনা ও রূপার গহনা যেমন ঐতিহ্য ও আভিজাত্যেকে প্রকাশ করে ঠিক তেমনি কস্টিউম জুয়েলারির চাহিদাও পার্টি থেকে শুরু করে গেট টুগেদারের ক্ষেত্রে বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু দেখতে গেলে এই সকল ধাতব অলংকারকে টেক্কা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে-কাঠ ও পিতলের তৈরি জুয়েলারি কারুকার্যময় কারুশিল্প। আমাদের প্রকৃতিতে সহজে পাওয়া যায় এমন কারুশিল্পের উপাদান দিয়ে তৈরী অলংকার আমাদের দেশে যেমন বিকাশ লাভ করেছে এবং এর শিল্প গুণ সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত। এই গহনা গুলি যেমন দেখতে সুন্দর ঠিক তেমনি হালকা ওজন হওয়ায় ব্যবহারেও বেশ উপযোগী। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনে চটজলদি মেকওভারের জন্য এই জুয়েলারির জুড়ি নেই।

উদ্যোক্তা নিজ হাতে গহনা বানানোর প্রতিটি ধাপ সম্পাদন করেন। তিলোত্তমা নিজস্ব আইডিয়া ধ্যান ধারণা থেকে বিভিন্ন ধরনের কাঠ এবং রঙের মিশেলে বৈচিত্র্যময় কারুশিল্পের গয়না তৈরী করেন । এসবের কাঁচামাল ও আমাদের আসে পাশের প্রকৃতি থেকে নেয়া। বৈচিত্র্যময় চিন্তা ভাবনা থেকে হাতের কাজের এই অসামান্য সাধারণ জিনিস হয়ে উঠে অতুলনীয়।

বৈচিত্র্যময় এই জুয়েলারির মধ্যে আছে শিল্পীর দক্ষ হাতের কাজ। রঙ বেরঙের অলংকারের মধ্যে আছে বিভিন্ন ডিজাইনের সম্ভার। দৈনিক সাজগোজের ক্ষেত্রে পোশাকের সাথে এক্সেসরিজ-এর রঙ মানানসই হতে গেলে কারখানার এই অসাধারণ জুয়েলারির বিকল্প হয় না।

Advertisement

তিলোত্তমার পরিকল্পনাটি নতুন হলেও কারুশিল্পে এর প্রচলন বহু পুরানো। কারুশিল্পের এর ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ১৬-১৭ শতকের দিকে ফ্রান্স এবং ইতালির নান-রা এর ব্যবহার করত। কাঠ ও পিতলে এর আদিম ব্যবহার হত মিশরে। ইউরোপেও কিছু জায়গায় এর প্রচলন ছিল। নান-রা বিভিন্ন বইয়ের ধার সোনালী রঙ করে বাঁধিয়ে তার উপর এর শৌখিন কারুকার্য করতেন আবার পৌরাণিক দর্শণের বই ও পবিত্র ছবি সু-সজ্জিত করে বাঁধানোর ক্ষেত্রে কারুশিল্প (কাঠ-পিতল-সুতার) এর ব্যবহার চলতো।

সম্প্রতি গহনা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান তরুণ তরুণীরা এই ধরণের অলংকার তৈরীর ক্ষেত্রে বেশ উপযোগী হয়ে উঠেছে। গয়নার আকার আকৃতি দিনে দিনে পরিবর্তিত ও পরিশীলিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের পোশাক-পরিচ্ছদে যেমন নতুনত্ব, তেমনই তাদের অলংকার পছন্দের ক্ষেত্রেও বেশ সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ের তরুণ- তরুণীরা আগ্রহ হচ্ছে গহনার প্রতি যার প্রধান কাঁচামাল সাধারণ কাঠ বা পিতল, আর সেখানেই শুধুমাত্র হাতের কাজ এর দ্বারা ফুটিয়ে তুলছে কিছু অসাধারণ কারুকার্যময় শিল্প । বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণী কাছে গলার পেডেন্ট এখন বেশ পছন্দনীয়।

কেরোসিন কাঠের ওপর রঙে ফুটিয়ে তোলা হয় বিচিত্র বিষয়বস্তু, সেখানে পশুপ্রেমীরা যেমন পাবেন তাদের পছন্দের বিভিন্ন ডিজাইনের থিমের পেডেন্ট। এছাড়া ‘কারখানায়’ সংগ্রহে আছে চমৎকার সব বিষয়ের উপর আরো অনেক থিমের পেডেন্ট। কারখানার বিশাল সংগ্রশালা গ্রাহক ফেসবুক পেজে পাবেন; যেখানে রয়েছে গ্রাহকের মন পছন্দ বাহারি অলংকারের বৈচিত্র্যময় সমাহার। যা আপনার যে কোনো আয়োজনে তিলোত্তমার গহনা খুব সাবলীলভাবে যেকোন পোশাকের সাথেই মানিয়ে নিতে পারবে গ্রাহক। প্রাচ্য কিংবা ওয়েস্টার্ন অথবা এশিয়ার যে কোনো ঘরানার সাঁজ পোশাকের সাথে তিলোত্তমার অলংকার পনেরো থেকে পঁয়ষট্টি সবার কাছে আকৃষ্ট হবে সমান ভাবে।

তিলোত্তমা তাঁর কারখানায় যে সব পণ্য তৈরী করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পায়েল, হ্যান্ড মেড পোলা, চোকার, নীহারিকা, ময়ূরাক্ষী, পেন্ডেন্ট,বাহারি, কদম রিং, ব্রোচ ইত্যাদি।

শুধু সজ্জার বস্তু হিসাবেই নয় পাশাপাশি পরিবেশ সুন্দর ও সুস্থ রাখতে তিলোত্তমার এই গহনা অন্যতম। এক্ষেত্রে এই ধরণের গহনা তৈরীর সময় কোনরকম পরিবেশে দূষণ হয় না। অর্থাৎ সব দিক থেকে দেখতে গেলে মেকওভারের পাশাপাশি ইকো ফ্রেন্ডলি অলংকার হিসাবে কাজ করে এই কারখানার জুয়েলারি।

দেশের নারী উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে তিলোত্তমা বলেন- “অন্য নারীদেরও উচিত হবে শুধু শুধু ঘরে বসে না থেকে পড়াশোনা অথবা সংসারের পাশাপাশি কিছু একটা করা। স্বপ্ন, সামান্য পুঁজি আর পরিশ্রম থাকলেই অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব”।

উদ্যোক্তা বার্তার প্রতিবেদক কে তিলোত্তমা জানান, ‘নারী উদ্যোক্তা’ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার পেছনে রয়েছে নিজের পরিশ্রম এবং এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। পথে পথে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে তাঁকে। তবে কখনই দমে যাননি। অল্পকিছু পুঁজি আর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পথচলা শুরু করে আজ কারখানার বয়স ৪ বছর পার করেছে। ‘কারখানা’ নিয়ে সাফল্যের পথে হেঁটে চলছে তিলোত্তমা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন অন্য নারীদেরও।

ডেস্ক রিপোর্ট, উদ্যোক্তা বার্তা

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here