উদ্যোক্তা জুবাইদা তন্বী

ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল চারুকলায় পড়া। শৈশবের প্রেম ছিল রং তুলির সঙ্গে। ছোট থেকেই শিল্পী স্বত্বাকে লালন করছিলেন মনে। বলছি রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার গোরখায় গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও মোসা: নাসিমা খাতুন দম্পতির কন্যা জুবাইদা তন্বীর কথা।

তন্বী মাধ্যমিক শেষ করেছেন দূর্গাপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং উচ্চ মাধ্যমিক দূর্গাপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে। আগেই ইচ্ছে ছিলো চারুকলাতে পড়াশোনা করবেন। তাই পরিবারের সদস্যদের জানালেন রং তুলির সঙ্গে থাকতে চান। পড়তে চান চারুকলায়্। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা মত দিলেন না। স্বপ্ন যেন থমকে গেল তন্বীর।

tonni3

পরিবারের বাধায় নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেন রাজশাহী কলেজে। মনোবিজ্ঞানে পড়ে কি হবে? রংয়ের তুলি কি জীবন থেকে একেবারে বিদায় নিল?” এমন নানান প্রশ্ন প্রতি মুহূর্তে ভাবতে থাকেন তন্বী। এই ভেবেই বিষন্নতায় ভুগছিলেন তিনি।

পড়াশোনার জন্য একটি ছাত্রী নিবাসে উঠলেন। ছাত্রী নিবাসেই হঠাৎ একদিন দেখলেন এক ছাত্রী ব্লক বাটিক নিয়ে কাজ করছেন। এই দৃশ্য দেখে তন্বীর স্বপ্ন যেন ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। আবার কাজ শুরু করলেন রং তুলি নিয়ে। নিজের একটি পোশাকে হ্যান্ডপেইন্ট দিয়ে শুরু করলেন তন্বী। হ্যান্ড পেইন্ট করা সেই পোশাক টি পরে একদিন কলেজে গেলেন। বেশ কয়েকজন সহপাঠী পোশাকটির তারিফ করলেন। সবাই জানতে চাইলেন পোশাক কোন দোকান থেকে কিনেছেন। তখন তন্বী তার সহপাঠীদের জানালেন “পোশাকটিতে তিনি নিজেই ডিজান করেছেন। সেটি শুনে সহপাঠীরা তার কাজের প্রশংসা করলেন। কিছুদিন পর পর এভানে তিনি নতুন নতুন পোশাকে হ্যান্ডপেইন্ট করতেন এবং সেগুলো কলেজে পরে যেতেন। হঠাৎ একদিন তার এক সহপাঠী তন্বীর কাছ থেকে তার ডিজাইন করা একটি পোশাক কিনে নিতে চান। রাজি হলেন তন্বী। মনের মাধুরী মিশিয়ে রং তুলিতে রাঙিয়ে দিলেন বান্ধবীর পোশাকটি। তার কাজ দেখে খুব পছন্দ করলেন। এই ভাবেই কলেজে জুড়ে সব সহপাঠীদের কাছে খুব দ্রুতই তন্বীর কাজের কথা ছড়িয়ে পড়লো।

tonni1

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিলো তার কাজের চাহিদা। তবে সেই তুলনায় পুঁজি ছিলো না তন্বীর। তবে পুঁজির অভাবে থেমে থাকেন নি এই তরুণী। ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এগিয়ে গেছেন নিজের স্বপ্নের পথে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার কাছে অর্ডার আসছে। আর এভাবেই অধম্য মনোবলই পাল্টে দিয়ে তন্বীর জীবন। এখন পড়াশোনাও কাজ চলছে সমান তালে। ইচ্ছা শক্তির জোরে সকল প্রতিবন্ধকতা কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে চলেছেন স্বপ্নবাজ এ তরুণী।

উদ্যোক্তা হিসেবে পথ চলা শুরুর পরে প্রতিষ্ঠানর হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলেন তন্বী। তার প্রতিষ্ঠানের নাম দিলেন ‘রংরাজত্ব’। তরুণ উদ্যোক্তা জুবাইদা তন্বীর পড়াশোনা এখনো শেষ হয় নি। পড়াশোনা শেষ করে অন্যের অধীনে চাকরি করার ইচ্ছা নেইবরং তার স্বপ্নের “রংরাজত্ব”কে এগিয়ে নিতে চান। ভবিষ্যতে ‘রংরাজত্ব’ কে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান। আর সেই লক্ষেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি ।

tonni2

বিসিক,বিটা,যুব উন্নয়ন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়ে অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছেন । শুরুতে কাজ করতেন থ্রিপিস, ওয়ান পিস নিয়ে। এখন তিনি কাজ করছেন “ওয়ান পিস, টু পিস, থ্রিপিস, বেবিড্রেস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, ওড়না নিয়ে। “আগের তুলনায় বেড়েছে কাজের অর্ডার। ফেইসবুকে তার প্রতিষ্ঠান রংরাজত্ব’র একটি পেইজও রয়েছে। সেখান থেকেও আজে কাজের অর্ডার। প্রতিটি কাজ নিজের হাতে যত্ন সহকারে তৈরি করেন। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে রংরাজত্বের পণ্য। এমন কি দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশেও যাচ্ছে তার পণ্য।

tonni5

ভবিষ্যতে অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়াতে চান তিন। তাদেকে তার প্রতিষ্ঠান ‘রংরাজত্ব’তে কাজের সুযোগ দিতে চান। তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন “অন্যের অধীনে না থেকে নিজে চেষ্টায় কাজ করে যেতে হবে”। প্রথমে নানা বাধা আসলেও টিকে থাক নিশ্চয়ই সফলতা আসবে।এতে নিজের দেশের এবং দশের মঙ্গল বয়ে আনবে বলে মনে করেন এ উদ্যোক্তা।

তামান্না ইমাম
রাজশাহী ডেস্ক, উদ্যোক্তা বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here