উদ্যোক্তা- রাহানুর ফেরদৌস
Advertisement

বুটিক ব্যবসা করে সফল আজ অনেক ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা। ছোট বেলা মায়ের কাছ থেকে সূচের আঁচড়ে ফুল,ফল পাখি সহ বিভিন্ন নকশা আঁকা শেখা যে কিশোরী বা তরুণী , আজ কাপড়ের ওপর সেই অবচেতন মনের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ যেন তার এখনকার বুটিক ব্যবসা।

বুটিক ব্যবসা সম্প্রসারনে ফ্যাশন জগতে মেয়েদের চলছে একক আধিপত্য। তবে নারী উদ্যোক্তারা শুধু আজ তার বুটিক উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। আসতে চান মূল ধারার ব্যবসায় নিজের উদ্যোগকে নিয়ে যেতে চান ভিন্ন উচ্চতায়। গড়তে চান উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক মানে, পরিনত করতে চান একটি ব্র‍্যান্ডে। এমনই একজন নারী উদ্যোক্তা রাহানুর ফেরদৌস।

কর্মীদের কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন উদ্যোক্তাঅনার্স পড়া কালীন মাএ ২৭০০ টাকা পুজি নিয়ে নিজের ডিজাইন করা টি-শার্ট দিয়ে বুটিক জগতে নিজ উদ্যোগ শুরু করেন রাহানুর ফেরদৌস। প্রতিটি বাবা চান তার সন্তান পড়ালেখা শেষ করে চাকুরী করবেন, ব্যতিক্রম হয়নি রাহানুরের বাবারও ক্ষেত্রেও। কিন্তু রাহানুরের স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার। ২০০২ সাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করেন। এর মাঝেই ভালবাসার মানুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ।

Advertisement
পোশাক তৈরি করছেন উদ্যোক্তার কর্মীগণ

স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে অর্ডার অনুযায়ী টি-শার্ট,ফতুয়া,থ্রি পিস এর উপর হ্যান্ড প্রিন্ট করেন এবং সেগুলো হোম ডেলিভারি দিতে থাকেন। আশে পাশে যাদের কাজ শেখার আগ্রহ ছিল তাদের ডিজাইন শিখিয়ে কাজ দিতেন কাজের বিনিময়ে যেটা তাদের কাজের পারিশ্রমিক দিতেন।

২০০৬ সাল প্রথম বড় একটি অর্ডার আসে ফতুয়া,শাড়ি,পাঞ্জাবী, থ্রি পিস এর ১০ দিনের মধ্যে ১০০ টি করে পোষাক গুলোর প্রতিটি তৈরি করে দেন রাহানুর। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন তার পণ্য গুলো অস্ট্রেলিয়ায় একটি এক্সিবিশনে যায় এবং ২ ঘন্টায় সকল পণ্য বিক্রি হয়ে যায়।

উদ্যোক্তার ডিজাইনে তৈরি বিভিন্ন রঙের পণ্য

রাহানুর ভীষণ উৎসাহিত হন। রাজশাহীর তালাইমারীতে শুরু হয় দ্বীপালো’স বুটিক এর পথ চলা। স্বামীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন উদ্যোক্তা হবার স্বপ্নে বিভোর রাহানুর ফেরদৌস। এসএমই মেলা সহ বিভিন্ন মেলায় অংশ গ্রহন করতে থাকেন তিনি। জনমানুষের কাছে বেশ পরিচিতি লাভ করেন রাহানুর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ডার আসতে থাকে। রাহানুর ফেরদৌসের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।

সুই-সুতার ফোঁড়ে তৈরি হচ্ছে উদ্যোক্তার পণ্য

তিনি বলেন, “আমি আমার প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যৎ এ একটি ব্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই। হয়ত সময় লাগবে কিন্তু আমার বিশ্বাস আমি পারব।”

বর্তমানে স্থায়ী ১০জন এবং অস্থায়ী প্রায় ৪০০জন কর্মীকে সাথে নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তা রাহানুর ফেরদৌস।

 

রাজশাহী থেকে রাইদুল ইসলাম শুভ
এসএমই করেস্পন্ডেন্ট ,উদ্যোক্তা বার্তা

Advertisement

1 COMMENT

Leave a Reply to ইমন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here